ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জাদু মিশ্রিত কেমিট্রেইল ও ইএমপি’ নিয়ে আতঙ্ক: ভিত্তিহীন গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, আকাশে ‘জাদু মিশ্রিত কেমিট্রেইল’ এবং জমিনে ‘ইএমপি’ (ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস)-এর প্রভাবে দেশের অধিকাংশ মানুষ আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তবে ‘নতুন সূর্য’-এর অনুসন্ধানে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই দাবিটির কোনো সত্যতা নেই; এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি গুজব।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই বার্তায় বলা হয়েছে, আকাশে প্লেন থেকে রাসায়নিক বা কেমিট্রেইল ছড়ানো হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জাদুর প্রভাব যুক্ত করা হয়েছে। মূলত, আকাশে উড়োজাহাজের পেছনে যে সাদা রেখা দেখা যায়, তাকে বিজ্ঞান পরিভাষায় 'কনট্রেইল' বা জলীয় বাষ্পের ঘনীভূত রূপ বলা হয়। একে 'কেমিট্রেইল' আখ্যা দিয়ে এর মাধ্যমে বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়ানোর দাবিটি একটি পুরোনো ও বহুল চর্চিত বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব (Conspiracy theory), যা বিশ্বের কোনো নির্ভরযোগ্য গবেষণা বা বিজ্ঞান দ্বারা আজ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। এর সঙ্গে 'জাদু' বা তন্ত্রমন্ত্র মিশ্রিত থাকার দাবিটি চরম অবৈজ্ঞানিক এবং নিছক কুসংস্কারের বহিঃপ্রকাশ।

অন্যদিকে, পোস্টে উল্লেখিত ‘ইএমপি’ বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস হলো মূলত তীব্র বিদ্যুৎচুম্বকীয় শক্তির একটি আকস্মিক বিস্ফোরণ। এটি সাধারণত ইলেকট্রনিক ডিভাইস, পাওয়ার গ্রিড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম। এর প্রভাবে সরাসরি মানবদেহে গণহারে এমন আকস্মিক ও অজানা ভাইরাসের মতো অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা প্রমাণ নেই। বর্তমানে সমাজে ঘরে ঘরে যে জ্বর, সর্দি বা শারীরিক দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঋতুভিত্তিক প্রভাব এবং মৌসুমী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ঘটছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ অনুযায়ী, যেকোনো বিপদ, মহামারি বা অসুস্থতায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল (ভরসা) রাখা এবং নিয়মিত মাসনুন দোয়া পাঠ করা একজন মুমিনের একান্ত কর্তব্য। আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য সর্বদা যেকোনো সংকটকালে ইবাদত, জিকির ও দোয়ার প্রতি উৎসাহিত করে। তবে পবিত্র ইসলাম ধর্মে কোনো খবর বা তথ্য যাচাই না করে তা প্রচার করার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সমাজে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বা মনগড়া কোনো তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এ ধরনের ভিত্তিহীন ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচার করা সুস্পষ্ট ইসলামি নৈতিকতার পরিপন্থি।

শারীরিক যেকোনো অসুস্থতায় মাসনুন দোয়ার আমল অব্যাহত রাখার পাশাপাশি উপযুক্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং চিকিৎসা গ্রহণ করাও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এ ধরনের ভিত্তিহীন গুজবে কান দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে এবং যেকোনো খবর শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার জন্য সচেতন মহলের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...