ঢাকা: স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ নির্ভর নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও সচেতন অভিভাবকসমাজ। তাদের মতে, মূলধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অবিলম্বে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা বৃদ্ধি না করা হলে বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের মাদ্রাসা শিক্ষায় স্থানান্তর করবেন, যা সমাজে বিদ্যমান দ্বিমুখী শিক্ষার ব্যবধান ও সামাজিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন আমলে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী জাতীয় পরিচয় ও ধর্মীয় নৈতিকতাহীন যে শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা করেছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল সমাজকে নিজস্ব মূল্যবোধ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। ব্রিটিশদের প্রবর্তিত এই বিভাজনমূলক শিক্ষানীতির ফলেই সমাজে সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার মাঝে একটি কৃত্রিম প্রাচীর তৈরি হয়। স্বাধীনতার এতদিন পরেও সেই ঔপনিবেশিক মানসিকতা ও শিক্ষাকাঠামোর প্রভাব অব্যাহত থাকায় সাধারণ স্কুল-কলেজে সঠিক নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো জাতির সামাজিক স্থিতিশীলতা ও চারিত্রিক গঠনের মূল ভিত্তি হলো ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতা। স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমে ইসলামি মূল্যবোধ, সততা, ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে কিশোর-তরুণরা তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত হবে। এই আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে মাদ্রাসা শিক্ষায় পাঠাচ্ছেন, যা মূলত কোনো একক ধারার শিক্ষার প্রতি পক্ষপাত নয় বরং নৈতিক সুরক্ষার তাগিদ থেকেই উদ্ভূত।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক সংহতি রক্ষা এবং ঔপনিবেশিক আমলের শিক্ষা-বৈষম্য থেকে মুক্ত হতে হলে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মর্যাদা পুনপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ আমলের রেখে যাওয়া এই একমুখী ধারা থেকে বেরিয়ে এসে পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাস করাই এখন সচেতন নাগরিক সমাজের মূল দাবি।
