দেশের প্রধান প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফের ফিরে এসেছে দখলদারিত্ব ও সহিংসতার পুরোনো সংস্কৃতি। গতকাল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে আজ রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া এবং ইনকিলাব মঞ্চ ও ছাত্রশক্তির মতো বিভিন্ন প্রগতিশীল ও সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচিতে ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসকল ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার তীব্র অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
গতকাল রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিপ্লব স্মরণ ও আলোচনা সভায় প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় আজ রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি ও জিএস-এর ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালানো হয়। একই দিনে ঢাকা কলেজে আয়োজিত জুলাই স্মরণে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বাধা প্রদানসহ হামলা চালানো হয়। এমনকি ঐতিহাসিক সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া প্রাঙ্গণেও শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা চালানো এবং পরিবেশ উত্তপ্ত করার অভিযোগ ওঠে সংগঠনটির বিরুদ্ধে।
এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর আগ বাড়িয়ে হামলা এবং পরবর্তীতে 'ইনকিলাব মঞ্চ' ও 'ছাত্রশক্তি'র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের প্রতিবাদের মুখে ছাত্রদলের ক্যাডাররা কোথাও কোথাও তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে, আবার কোথাও কোথাও নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার এই অপচেষ্টায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও অভিভাবকবৃন্দ। একটি স্বাধীন ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজে শিক্ষা প্রাঙ্গণে এ জাতীয় ক্রমাগত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মনে করেন।
