বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের দাবি বা ক্ষোভ প্রকাশে সাধারণ মানুষের একটি অংশ যুক্তির পরিবর্তে ক্রমশ গালিগালাজ ও অশালীন ভাষার দিকে ঝুঁকছেন। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং যৌক্তিক কথায় সাড়া না দেওয়ার তীব্র হতাশা থেকেই মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সাময়িক দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রতিবাদের নামে এমন অশালীন ভাষার ব্যবহারকে ইসলামী মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক শিষ্টাচারের চরম অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল ও ইসলামি চিন্তাবিদরা।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ও সামাজিক প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, যৌক্তিক ও শালীন ভাষায় উত্থাপিত দাবিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষের যথাযথ মনোযোগ পাচ্ছে না। এর ফলে একশ্রেণির মানুষের মধ্যে এমন একটি উদ্বেগজনক ধারণার জন্ম নিয়েছে যে, উচ্চস্বরে গালমন্দ বা অশালীন বাক্যবাণ ছুঁড়লেই কেবল প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা এবং জবাবদিহিতার অভাবে সৃষ্ট এই ক্ষোভ থেকেই মানুষ প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে গালিকে বেছে নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ইসলামী নীতি ও আমাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রবণতা অত্যন্ত ভয়াবহ। ইসলামে যেকোনো পরিস্থিতিতে শালীনতা ও ধৈর্য বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, একজন প্রকৃত মুমিন কখনো গালমন্দকারী বা অশ্লীলভাষী হতে পারে না। যখন কোনো সমাজে যুক্তির চেয়ে গালির কদর বাড়ে এবং কর্তৃপক্ষ কেবল অশালীন আচরণের বিপরীতে প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হয়, তখন বুঝতে হবে সেই সমাজের কাঠামোগত ও নৈতিক পচন চরম আকার ধারণ করেছে।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা নিশ্চিতভাবেই নাগরিক অধিকার, কিন্তু তার জন্য অশালীনতার আশ্রয় নেওয়া কোনোভাবেই বৈধ হতে পারে না। গালিগালাজ হয়তো সাময়িকভাবে আলোচনা বা উত্তেজনা সৃষ্টি করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করে দেয়। একটি সুস্থ ও সভ্য সমাজে প্রতিবাদের ভাষা হওয়া উচিত দৃঢ়, যৌক্তিক এবং শালীন।
একইসাথে, এই পরিস্থিতির জন্য কর্তৃপক্ষের দায়ও এড়ানোর সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের যৌক্তিক ও শালীন দাবিগুলোকে যদি শুরুতেই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়, তবে কাউকে বাধ্য হয়ে অশালীনতার পথে পা বাড়াতে হয় না। ইসলামী মূল্যবোধ ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ রক্ষার্থে নাগরিকদের যেমন ভাষার শালীনতা বজায় রাখতে হবে, তেমনি কর্তৃপক্ষকেও জনগণের যৌক্তিক কথার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। নতুবা এই নৈতিক অবক্ষয় অচিরেই আমাদের সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
