ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

তোফায়েল আহমেদের প্রস্থান ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতা

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে সমাপ্তি ঘটল। ব্যক্তিগতভাবে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করলেও, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে রয়ে গেছে গভীর ক্ষত।

তোফায়েল আহমেদের প্রস্থান ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতা
তোফায়েল আহমেদ 

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে রক্ষীবাহিনীর গঠন ও এর মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক নিপীড়নের যে 'ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কেল' বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করা হয়েছিল, তার অন্যতম কারিগর হিসেবে তোফায়েল আহমেদ ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে যখন দেশ পুনর্গঠনের প্রয়োজন ছিল, তখন রক্ষীবাহিনীর কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মনে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিল। তোফায়েল আহমেদ সে সময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, তাতে হাজার হাজার মানুষ অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে যাদের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল কিংবা যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন, তাদের সেই করুণ আর্তনাদ ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতা এখনো অনেকাংশেই অনালোচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাজনীতিবিদের প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল তার ক্ষমতার সময়ে হয় না, বরং তার কর্মকাণ্ডের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের ভিত্তিতেই ইতিহাস তাকে বিচার করে। তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার প্রভাব বলয়ে থেকে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকারের চর্চায় কতটুকু সহায়ক ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। যারা স্বজন হারিয়েছেন এবং যারা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের কাছে তোফায়েল আহমেদের এই মৃত্যু কেবল একটি জীবনের অবসান নয়, বরং এক দীর্ঘ বিচারহীনতার সংস্কৃতির একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি।

পৃথিবীর বিচারব্যবস্থায় হয়তো অনেক অন্যায় আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়, কিন্তু নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিচারে কোনো অপরাধই হারিয়ে যায় না। এই নিপীড়িত ও মজলুম মানুষদের জন্য এখন একমাত্র ভরসার স্থল মহান খোদাতায়ালার আদালত। দুনিয়ার আদালতে প্রভাবশালীরা অনেক সময় বিচারের আওতার বাইরে থেকে গেলেও, আখেরাতের অমোঘ বিচারে প্রত্যেকটি অন্যায় ও নির্যাতনের হিসাব নেওয়া হবে—এমন বিশ্বাসই আজ সেই হাজারো ভুক্তভোগী পরিবারের সান্ত্বনার একমাত্র জায়গা।

পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এক শিক্ষা হিসেবে টিকে থাকবে—কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার একটি জাতিকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতবিক্ষত করতে পারে। ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের জয়গান গায় না, বরং নিপীড়িতদের দীর্ঘশ্বাসকেও পরম যত্নে সংরক্ষণ করে রাখে।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...