দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং ইসলামী অর্থব্যবস্থার বাস্তবায়নে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র অবদান অনস্বীকার্য। এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ছিল একটি কল্যাণমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার স্বপ্ন, যার নেপথ্যে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দূরদর্শী নেতৃত্ব।
![]() |
| ফাইল ফটো |
আবু নাসের মোহাম্মদ আবদু জাহের, শহীদ মীর কাশেম আলী, মরহুম মোহাম্মদ ইউনুস ও শহীদুল ইসলাম মাক্কীর মতো ব্যক্তিত্বরা সেই সময়ে দেশের প্রথিতযশা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। জামায়াতের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা ও সেবার মাধ্যমে ব্যাংকটি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা লাভ করে।
আজ এই ব্যাংকটি কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক উত্তরাধিকার। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছিল এবং এস আলমের মতো ব্যক্তিরা যেভাবে অর্থ পাচার ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে দেউলিয়া করেছিল, তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। সেই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত দোসরদের পুনরায় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের যেকোনো অপচেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইসলামী ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক ও দেশপ্রেমিক জনতা কোনোভাবেই এই প্রতিষ্ঠানটিকে লুটেরাদের হাতে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। একটি জাতীয় সম্পদকে কুক্ষিগত করার গভীর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনমত আজ সোচ্চার। ইসলামী ব্যাংকের ঐতিহ্য, স্বচ্ছতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল মহলের উচিত বিতর্কিত কাউকে নিয়োগ না দিয়ে ব্যাংকের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। দেশের অর্থনীতি এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই ব্যাংককে সকল প্রকার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে এর প্রতিষ্ঠাতা ও গ্রাহকদের আস্থার জায়গায় অটুট রাখা সময়ের দাবি।
