ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতায় চরম আঘাত: কুরবানীতে বাধার মুখে সংখ্যালঘু মুসলিম, সামনে আসছে দেশভাগের ইতিহাস

ঢাকা: ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় আচার ‘কুরবানী’ পালন করতে গিয়ে নজিরবিহীন বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতায় চরম আঘাত: কুরবানীতে বাধার মুখে সংখ্যালঘু মুসলিম, সামনে আসছে দেশভাগের ইতিহাস
ফাইল ফটো 

গরু কুরবানীর ওপর দীর্ঘদিনের অঘোষিত ও ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার পর এবার ছাগল কুরবানীর ক্ষেত্রেও হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদীদের বাধা, হুমকি ও সাম্প্রদায়িক উসকানির খবর পাওয়া গেছে। ধর্মীয় এই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভারতের অনেক রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অস্তিত্বের সংকটে ভুগছেন।

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ঈদের দিনেও অনেক এলাকায় মুসলমানরা জামাতে নামাজ আদায়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। কুরবানীর জন্য নির্ধারিত স্থানে গোবর বা শুকরের মাংস ফেলে পবিত্রতা নষ্ট করার মতো ঘৃণ্য ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাটি এখন আর কেবল নির্দিষ্ট কোনো পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ভারতীয় মুসলিমদের ধর্মীয় স্বকীয়তা ও তাদের অস্তিত্বের ওপর একটি সরাসরি আঘাত।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সরকারি নীতির এই দ্বিমুখী অবস্থান অত্যন্ত রহস্যজনক। একদিকে ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গরুর মাংস রফতানিকারক দেশ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণভাবে গরু কুরবানী ও মাংস খাওয়ার দায়ে মুসলমানদের ওপর চালানো হচ্ছে বর্বর নির্যাতন। এ থেকে স্পষ্ট যে, ধর্মীয় আবেগ এখানে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কোণঠাসা করা। গুজরাটসহ বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের ঘরে মুরগীর মাংস রান্নার গন্ধ পাওয়ার অজুহাতে বাড়িঘরে হামলার মতো ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে, ধীরে ধীরে এটি একটি সর্বগ্রাসী সামাজিক বয়কটে রূপ নিচ্ছে।

বর্তমান সময়ের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেকের স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে দেশভাগের ইতিহাস এবং কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দূরদর্শিতার কথা। ইতিহাসবিদদের মতে, ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও জিন্নাহর গোপন মিশন ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের পরবর্তী সময়ের স্বীকারোক্তি ছিল যে, জিন্নাহর অসুস্থতার কথা জানা থাকলে তিনি দেশভাগ পিছিয়ে দিতেন, যাতে জিন্নাহর মৃত্যুর পর অখণ্ড ভারত বজায় থাকে। জিন্নাহর সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তই ছিল আজকের দিনে উপমহাদেশের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রধান ঢাল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলমানরা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন, তা জিন্নাহর সেই ঐতিহাসিক আশঙ্কাই সত্য প্রমাণ করছে। যারা জিন্নাহর ভূমিকার সমালোচনা করেন, তাদের জন্য আজকের ভারতের পরিস্থিতি এক বড় শিক্ষা। জিন্নাহর সেই রাজনৈতিক কৌশলের কারণেই আজ পার্শ্ববর্তী দেশে লাখো মুসলমান কোনো প্রকার ঝুঁকি ছাড়াই তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারছেন।

মিম্বরের বয়ানে বা সমাজবিশ্লেষকদের আলোচনায় এখন একটাই প্রশ্ন—যে দেশে ধর্মীয় সহনশীলতার কথা ফলাও করে প্রচার করা হয়, সেখানে ক্ষুদ্রতম ধর্মীয় রীতিনীতি পালনেও এমন বাধা কেন? ভারতের শাসকগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি যদি এভাবেই উগ্রবাদী ধারায় চলতে থাকে, তবে তা ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা থাকলেও, বাস্তবে যে এটি কেবলই শব্দে সীমাবদ্ধ, তা ভারতের বর্তমান সংখ্যালঘু পরিস্থিতির দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...