ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

ঈদের ছুটিতে কাটছাঁট, নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক বদল

পশ্চিমবঙ্গ: পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় পালাবদল ঘটার পরপরই সরকারি ছুটির তালিকায় বড় ধরণের পরিবর্তন আনল বিজেপি সরকার। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ঈদ উপলক্ষে যে দুই দিনের ছুটির ঘোষণা করা হয়েছিল, নতুন প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বদলে তা এক দিনে নামিয়ে এনেছে। এই আকস্মিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাঝে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ঈদের ছুটিতে কাটছাঁট, নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক বদল
ফাইল ফটো 

সাবেক প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী, জনজীবনে ধর্মীয় উৎসবের গুরুত্ব এবং সম্প্রীতির বার্তা বজায় রাখতে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে দুই দিনের ছুটি বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এটি শুধু প্রশাসনিক ছুটিই ছিল না, বরং তা রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছিল। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই এই নীতিতে পরিবর্তন আনল। প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, কর্মদিবসের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সরকারি অফিসের কাজের গতিশীলতা নিশ্চিত করার যুক্তি দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঈদের মতো প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ছুটি কমিয়ে আনা সাধারণ মানুষের অভ্যাসে এবং ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিকূলতার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চার সুযোগকে সংকুচিত করবে। দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা রীতি বা জনজীবনের সাথে মিশে যাওয়া ছুটির দিনের এমন সংকোচন স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক সচেতন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রশাসনিক নীতিতে পরিবর্তন আসা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, ধর্মীয় উৎসবের সাথে জড়িত ছুটির বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত সাধারণত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপটি রাজ্যের প্রশাসনিক ক্যালেন্ডারে একটি বড় পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় সংগঠন কোনো আনুষ্ঠানিক দাবি পেশ করে কি না এবং প্রশাসন সেই বিষয়ে কি অবস্থান নেয়।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...