ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে নিখোঁজের পরদিনই সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটি সংগঠিত পাচারকারী চক্র এই কিশোরীদের সীমান্ত পার করে ভারতে পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্ত ও সচেতন মহলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে তথাকথিত ‘হিন্দু নির্যাতন’-এর কৃত্রিম ও ভিত্তিহীন গুজবকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করার এবং এর অজুহাতে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানার এক গভীর ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ ছিল এই অপহরণ ও পাচারচেষ্টা।
![]() |
| ছবি সংগৃহিত |
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের এই চার শিক্ষার্থী হঠাৎ নিখোঁজ হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে পুলিশ প্রশাসন দ্রুততম সময়ে তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে নিখোঁজের পরদিনই সিলেটের একটি দূরপাল্লার বাস কাউন্টার থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চার ছাত্রীকে পাচার করার মূল উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বিপজ্জনক। মূলত বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর কাল্পনিক নির্যাতনের যে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, তাকে সত্য বলে প্রমাণ করতেই এই কিশোরীদের ভারতে পাচারের ছক কষা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাচার সম্পন্ন হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ থেকে হিন্দু কিশোরী অপহরণ’ ও নির্যাতনের মিথ্যা কাহিনী ছড়িয়ে দিয়ে অপপ্রচার চালানো হতো। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং বাংলাদেশে ভারতের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের একটি পটভূমি ও অজুহাত তৈরি করা।
জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সচেতন সমাজ মনে করেন, বাংলাদেশের সাধারণ ও শান্তিকামী সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকরা বারবারই প্রতিবেশী দেশের স্বার্থান্বেষী মহলের রাজনীতির ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছেন। দেশের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকিতে ফেলতে দেশীয় কিছু চিহ্নিত দালাল ও বিদেশী অপশক্তি অত্যন্ত সক্রিয়। এমতাবস্থায়, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং নিজ নিজ পরিবারের সুরক্ষায় ভারতীয় অপপ্রচার এবং দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা বিদেশী এজেন্টেদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, নিখোঁজের পরদিনই অত্যন্ত নিখুঁত ও দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে চার কিশোরীকে উদ্ধার এবং দেশের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নস্যাৎ করায় বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের এমন দেশপ্রেমিক ও বলিষ্ঠ ভূমিকা দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও গভীর আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।
