ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

বিএনপির রাজনৈতিক অতীত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দ্বিমুখিতা: একটি পর্যালোচনা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক সংসদে দেওয়া বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে তিনি এনসিপির তরুণ সংসদ সদস্যদের কাজের প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে সেই একই দলের জোটবদ্ধ রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তার এই বক্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং তাদের অতীত জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিএনপির রাজনৈতিক অতীত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দ্বিমুখিতা: একটি পর্যালোচনা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ফাইল ফটো 

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার রাজনৈতিক পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ এক অধ্যায়। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে শুরু হওয়া এই সম্পর্কের যাত্রা ১৯৯৯ সালে চারদলীয় জোট গঠন এবং ২০০১ সালে সরকার গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় চূড়ান্ত রূপ পায়। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন ও রাজপথের কর্মসূচিতে দুই দলের এই ঐক্য ছিল অত্যন্ত নিবিড়। প্রশ্ন উঠেছে, প্রায় দুই দশকের অধিক সময় ধরে যে দলটির সঙ্গে বিএনপি ক্ষমতার অংশীদার হয়েছে এবং রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে, সেই দীর্ঘ সময়ে তাদের ১৯৭১ সালের ভূমিকার বিষয়টি কি অজানাই ছিল?

পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনীতিতে যখনই কোনো কৌশলগত সুবিধার প্রয়োজন হয়, তখন ইতিহাসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বর্তমানে যে নৈতিক প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা দীর্ঘদিনের জোটবদ্ধ রাজনীতিতে কখনোই বিএনপির পক্ষ থেকে এভাবে উঠে আসেনি। বরং তৎকালীন সময়ে জামায়াতকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক জোটের অপরিহার্য অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। আজ এনসিপির তরুণদের নীতির পাঠ দিতে গিয়ে বিএনপি যে অবস্থানের কথা বলছে, তা তাদের নিজেদের অতীতের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করে, ইতিহাস কোনো নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজনে ব্যবহারের অস্ত্র হওয়া উচিত নয়। যদি ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটকে কোনো দলের রাজনৈতিক বৈধতা বা নৈতিকতা প্রমাণের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়, তবে সেই দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামগ্রিক এবং ধারাবাহিকভাবে প্রযোজ্য হওয়ার দাবি রাখে। দুই দশকেরও বেশি সময় যে দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে, সেই দলের অতীত ইতিহাস কি হঠাৎ করেই নতুন কোনো প্রাসঙ্গিকতা পেয়েছে? নাকি জোটের সুবিধা বা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেই এমন অবস্থানের পরিবর্তন—সেই উত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষ।

পরিশেষে, অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজের রাজনৈতিক ইতিহাসের আয়নায় তাকিয়ে আত্মবিশ্লেষণ করা যে কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের জন্য কাম্য। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে যদি বিএনপি আজও অটল থাকতে চায়, তবে সেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আগে নিজেদের অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া তাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...