ঢাকা: রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। বিরোধী দলের তীব্র আন্দোলনের মুখে পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
নিহত শিশু রামিসার পরিবারের শোকের মাতম ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রামিসার শোকসন্তপ্ত বাবা-মাসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা তাদের সন্তানের ওপর চালানো এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা প্রদান করেন এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার দৃঢ় আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, দেশের কোনো নাগরিক বিশেষ করে শিশুদের ওপর এমন বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। সরকার এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে অত্যন্ত তৎপর এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি শিশু হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।
একই ঘটনায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরপরই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন সংগঠন জড়িতদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এ ঘটনায় পুলিশ মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করেছে। রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
