রাজধানীর রাস্তায় গত বুধবার শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন শত শত নারী। ‘শিশু রামিসার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’—এই স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের সচেতন নারী ও মায়েদের একটি বড় অংশ।
![]() |
| ছবি সংগৃহিত |
ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারী নেত্রীরা বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা আমাদের মানবিক বোধকে চরমভাবে আঘাত করেছে। প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কিন্তু আজ আমরা দেখছি শিশুরা তাদের নিজ ঘরেও নিরাপদ নয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, নারীর মর্যাদা রক্ষা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামী সমাজব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই যেখানে শিশুরা নির্ভয়ে বেড়ে উঠবে। কিন্তু আজকের এই ভয়াবহ চিত্র প্রমাণ করে আমরা সামাজিক অবক্ষয়ের এক চরম পর্যায়ে উপনীত হয়েছি। ইসলামি মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা পরিবার ও সমাজ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই এ ধরনের জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে অপরাধীরা আরও বেশি উৎসাহিত হবে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে শিশু সুরক্ষা আইন জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। জামায়াতে ইসলামীর নারী নেত্রীরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার কালক্ষেপণ বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না। রামিসার হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা করেন তারা।
উক্ত কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও সংহতি প্রকাশ করেন এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। প্রশাসনের নিকট তাদের দাবি—তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার নিষ্পতি করতে হবে।
