ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

ভূ-রাজনীতিতে কোণঠাসা ট্রাম্প: চীন ও ইরানের কাছে মার্কিন আধিপত্যের চরম বিপর্যয়

বিশ্ব রাজনীতিতে এক সময়ের একচ্ছত্র অধিপতি আমেরিকার প্রভাব ও প্রতিপত্তি এখন খাদের কিনারায়। একদিকে ইরান যুদ্ধে সামরিক ও প্রযুক্তিগত বিপর্যয়, অন্যদিকে চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তির সামনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অসহায় আত্মসমর্পণ—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হেজেমনি’ বা একাধিপত্য আজ চরম হুমকির মুখে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘চুক্তি’ ভিক্ষা করার মধ্য দিয়ে আমেরিকার সেই সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তির ঘণ্টা বাজছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

​ভূ-রাজনীতিতে কোণঠাসা ট্রাম্প: চীন ও ইরানের কাছে মার্কিন আধিপত্যের চরম বিপর্যয়
খাবার টেবিলে দুই বিশ্বনেতা 

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি চুক্তি করতে আগ্রহী এবং এ ব্যাপারে যেকোনো প্রকার সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত। অথচ এই সফরের শুরুতেই শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের ‘বন্ধুত্বের’ দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে বেইজিং কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাইওয়ান ইস্যুতে চীন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এটি তাদের জন্য ‘রেড লাইন’ এবং আমেরিকার হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রখ্যাত ভূ-রাজনীতিবিদ রবার্ট পেইপ এ প্রসঙ্গে বলেন, "চীন আর আমেরিকাকে ধরার চেষ্টা করছে না; বরং এখন আমেরিকাকেই চীনকে ধরতে হবে।" তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উদ্ভাবনে চীন এখন আমেরিকার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে, যার ফলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এখন বেইজিংয়ের পেছনে ঘোরা ছাড়া ওয়াশিংটনের আর কোনো পথ খোলা নেই।

আমেরিকার খোদ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএন প্রকাশ করেছে, যা মার্কিন সামরিক শক্তির কঙ্কালসার চেহারা উন্মোচন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৯ দিন টানা বোমাবর্ষণ করার পরও ইরানের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মিসাইল এবং তাদের ৩৩টি আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটির প্রায় ৩০টিই সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই যুদ্ধে আমেরিকার নিজস্ব মিসাইল প্রযুক্তির প্রায় ৫০ শতাংশ এরই মধ্যে নিঃশেষ হয়ে গেছে। সামরিক বিশ্লেষক মাইকেল ক্লার্কের মতে, সিএনএন এই তথ্য প্রকাশ করেছে যাতে সাধারণ মার্কিনিরা বুঝতে পারে যে ট্রাম্প এই যুদ্ধে সম্পূর্ণ পরাজিত হয়েছেন। ইসরায়েলি লবি এই তথ্য ফাঁস করে আমেরিকাকে পুনরায় উস্কানি দিতে চাইলেও খোদ মার্কিন জনগণের ৫৯ শতাংশই এখন নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা হারিয়েছেন।

ইরানের ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে গত দুই দিনে ৩০টি চীনা জাহাজ নির্বিঘ্নে পার হয়েছে। আমেরিকার তথাকথিত অবরোধ সত্ত্বেও এই জাহাজগুলোকে চলাচলের সুযোগ দেওয়া প্রমাণ করে যে, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এখন অকার্যকর। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন সফরে গিয়ে ট্রাম্প মূলত এই জাহাজগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে আপস করতে বাধ্য হয়েছেন।

চীনের ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ভিক্টর গাও কটাক্ষ করে বলেছেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত 'দ্য আর্ট অব ডিল' (The Art of the Deal) না পড়ে এখন যুদ্ধের কৌশল নিয়ে লেখা 'দ্য আর্ট অব ওয়ার' (The Art of War) পড়া।"

বাস্তবতা হলো, ইরান ও চীনের কৌশলগত মৈত্রীর সামনে আমেরিকা আজ সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত। মধ্যপ্রাচ্যে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং নৈতিকতা বর্জিত যুদ্ধের পরিণামে মার্কিন সাম্রাজ্য আজ পতনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, যা বিশ্ব ব্যবস্থার এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...