ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

পশ্চিমা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতি: ধর্মীয় সংঘাত নাকি ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের লড়াই?

বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর সাথে ইসলামি দুনিয়ার যে অস্থির সম্পর্ক পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা নিছক ধর্মীয় বিদ্বেষ নাকি গভীর কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলামের প্রসার এবং মুসলিম দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এক ধরনের কৃত্রিম ভীতি তৈরি করা হচ্ছে, যা মূলত বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লড়াই।

পশ্চিমা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতি: ধর্মীয় সংঘাত নাকি ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের লড়াই?
ইসলামী ভ্রাতৃত্ব

বিশ্লেষণে দেখা যায়, পশ্চিমা বিশ্বের সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা বা ইহজাগতিক জীবনধারার বিপরীতে ইসলাম একটি শক্তিশালী নৈতিক ও সামাজিক বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা সমাজে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তার বিপরীতে ইসলামের শাশ্বত পারিবারিক কাঠামো এবং সুশৃঙ্খল জীবনবিধান অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এই সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক প্রভাবকে পশ্চিমা নীতি-নির্ধারকদের অনেকে তাদের প্রচলিত ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

দ্বিতীয়ত, মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা পশ্চিমা আধিপত্যবাদী দেশগুলোর দীর্ঘকালীন লক্ষ্য। মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া ও আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থান কব্জা করার পথে ইসলামি জাতীয়তাবাদ বা ধর্মীয় সংহতিকে বড় বাধা হিসেবে দেখা হয়। ফলে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অনেক সময় সুকৌশলে ইসলামকে একটি 'ভীতিপ্রদ' ধর্ম হিসেবে সাধারণ জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এছাড়া, পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে প্রায়শই ইসলামের অপব্যাখ্যা এবং নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। মুষ্টিমেয় কিছু বিপথগামী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে সামগ্রিক মুসলিম উম্মাহর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা মূলত ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতিকে পুঁজি করে নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার একটি কৌশল মাত্র।

পরিশেষে বলা যায়, পশ্চিমা বিশ্বের এই ইসলামভীতি কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নয়, বরং এর মূলে রয়েছে সাংস্কৃতিক আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং সঠিক ইসলামি দাওয়াতের মাধ্যমেই এই অপপ্রচার মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...