ভারত ও বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতৃপরিচয় নিয়ে ভিত্তিহীন ও অদ্ভুত দাবি করেছেন, যা কেবল ঐতিহাসিক সত্যের অপলাপ নয় বরং ধর্মীয় পবিত্র শব্দেরও চরম অবমাননা।
![]() |
| শুভেন্দু অধিকারী |
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, একটি জনসভায় বক্তব্য প্রদানকালে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন যে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতার নাম 'হরে কৃষ্ণ হরে রাম'। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রদ্ধেয় এই নামটিকে একজন মুসলিম নেতার বংশপরিচয়ে জুড়ে দিয়ে তিনি যে রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করেছেন, তাকে কাণ্ডজ্ঞানহীন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বলে অভিহিত করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত যে, শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। টুঙ্গিপাড়ার মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্ভট দাবি কেবল দুই দেশের কূটনৈতিক শিষ্টাচারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং এটি উগ্রবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসকে ‘আলু-পোটলের তরকারি’র মতো যখন-তখন পরিবর্তন করার এই প্রবণতা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র জপমন্ত্রকে রাজনৈতিক কৌতুক বা আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় সাধারণ ধার্মিক মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গিয়ে ধর্ম ও ইতিহাসের এমন জগাখিচুড়ি পাকানো কোনোভাবেই সুস্থ রাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয় বরং নিম্নমানের ‘স্ট্যান্ড-আপ কমেডি’র সমতুল্য।
বাংলাদেশে বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার ভারতপ্রীতি বা ভারতীয় নেতাদের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি যখন আলোচিত, ঠিক তখনই শুভেন্দু অধিকারীর এমন বক্তব্য দলটির সমর্থকদের চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। সমালোচকরা বলছেন, ভারতের এই নেতার অতি-উৎসাহী ‘ফ্যানগিরি’ এবং ভিত্তিহীন মন্তব্য আসলে বাংলাদেশের মানুষের কাছে হাসির খোরাক জোগাচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গ্রহণযোগ্যতাকে তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে।
রাজনীতিতে বাদানুবাদ স্বাভাবিক হলেও ধর্মীয় চেতনা ও সর্বজনস্বীকৃত ইতিহাস নিয়ে এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য কেবল সত্যের অপলাপ নয়, বরং প্রতিবেশী দেশের জনগণের ধর্মীয় ও জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার শামিল। সচেতন মহল মনে করছেন, সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসতে হলে ইতিহাস ও ধর্মের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা অপরিহার্য।
