ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি: আত্মপরিচয় সংকটে জাতি

দেশের প্রশাসন, প্রতিরক্ষা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিদেশি প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ। সম্প্রতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তা এবং আমলাতন্ত্রে বিদেশি ‘এজেন্ট’ বা অনুচরদের দৌরাত্ম্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সচিবালয়, সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেঁড়ে বসা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি: আত্মপরিচয় সংকটে জাতি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও ধর্মীয় অবমাননা প্রতিবেশী দেশ ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির আস্ফালন এবং মুসলিম ঐতিহ্যের নাম মুছে ফেলার প্রকাশ্য ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, মসজিদে ইবাদতরত মুসল্লিদের ওপর মানসিক ও পরিবেশগত নির্যাতনের ঘটনাগুলোকে আধুনিক সভ্য সমাজের জন্য কলঙ্কজনক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, পার্শ্ববর্তী দেশে যখন মুসলিম নিধন ও মসজিদ ভাঙার রাজনীতি চলছে, তখন বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের একটি অংশ ও সুশীল সমাজ সেই অপশক্তির পদলেহন করছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকার পরিচয় দিয়ে যারা উগ্রবাদী নেতাদের তোষামোদ করেন, তাদের পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইতিহাস বিকৃতি ও মুসলিম শাসন ভারতবর্ষে দীর্ঘ ৭০০ বছরের মুসলিম শাসনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৎকালীন শাসকরা পরমতসহিষ্ণুতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। আলোচকগণ মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, মুসলিম শাসকরা যদি বর্তমানের উগ্রবাদীদের মতো সংকীর্ণমনা হতেন, তবে এই ভূখণ্ডে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব হতো। অথচ বর্তমানে পরিকল্পিতভাবে মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ এবং ইতিহাস বিকৃতির মহোৎসব চলছে।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা ও আদর্শিক বিচ্যুতি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের আদর্শিক অবস্থান নিয়েও জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জনাব তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অত্যধিক গুণকীর্তন এবং তাকে জাতীয় প্রেরণার উৎস হিসেবে প্রচার করার বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাকারী এবং মুসলিম বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের মহিমান্বিত করার মাধ্যমে জাতীয় আত্মপরিচয়কে সংকটে ফেলা হচ্ছে বলে মনে করেন চিন্তাশীল মহল।

দ্বিমুখী নীতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা দেশের অভ্যন্তরে কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নেতা জাতীয় স্বার্থে কথা বললে তাকে 'সাম্প্রদায়িক' বা 'মৌলবাদী' তকমা দিয়ে কোণঠাসা করা হয়। অথচ প্রতিবেশী দেশের প্রকাশ্য মুসলিম বিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ না থাকা এবং তথাকথিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের 'জাতির অভিভাবক' বানানোর চেষ্টা জাতির জন্য আত্মঘাতী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যে জাতি নিজের শিকড়, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আত্মপরিচয় ভুলে যায়, তাদের অস্তিত্ব বিশ্ব মানচিত্র থেকে বিলীন হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। সামনের কঠিন লড়াই মোকাবিলায় প্রশাসন ও রাজনীতি থেকে বিজাতীয় দালালি নির্মূল করে খাঁটি দেশপ্রেমিক ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী নেতৃত্বের উত্থান এখন সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...