বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী স্কলার মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী বর্তমান সংকটে মুসলিম উম্মাহকে শিয়া-সুন্নি বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও আগ্রাসনের মুখে মুসলমানদের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি কেবল শত্রুপক্ষকেই লাভবান করবে। পাকিস্তানের এই প্রখ্যাত আলেম স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের অধিকাংশ মানুষ শিয়া হলেও এই মুহূর্তে ধর্মীয় মতভেদ সামনে আনা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই তিনি মনে করেন, মুসলিম বিশ্বের একটি শক্তিকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। এখন মুসলমানদের উচিত আকিদাগত পার্থক্যের চেয়ে বৃহত্তর ঐক্যের দিকে নজর দেওয়া।
![]() |
| মুফতি তাকি উসমানী |
মুফতি তাকি উসমানী প্রশ্ন তুলেছেন যে, এখন কি সত্যিই শিয়া-সুন্নি বিরোধ উসকে দেওয়ার উপযুক্ত সময়? কারণ বর্তমান হামলাগুলো কোনো ধর্মীয় মতবাদের কারণে নয়, বরং মুসলিম দেশগুলোর সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে করা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, যখন উম্মাহর রক্ত ঝরে, তখন মাজহাব বা আকিদার দোহাই দিয়ে দূরে থাকা ঈমানের দাবির পরিপন্থী। তাই জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের পাশে দাঁড়ানোই এখন প্রধান কর্তব্য। বেইজিং বা ওয়াশিংটনের মেরুকরণের চেয়েও তিনি মুসলিম উম্মাহর নিজস্ব সংহতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
দেশি পণ্ডিতদের বিতর্ক ও বিশ্ববরেণ্য আলেমদের দূরদর্শিতা
আমাদের দেশের অনেক বুদ্ধিজীবী যখন শিয়া-সুন্নি তর্কে ব্যস্ত, তখন বিশ্ববিখ্যাত স্কলাররা ঐক্যের পথ দেখাচ্ছেন। কারণ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। মুফতি তাকি উসমানীর এই বক্তব্য মূলত সেইসব সংকীর্ণমনা ব্যক্তিদের জন্য একটি বড় বার্তা যারা সংকটের সময়েও বিভেদ খোঁজেন। তাই যুগান্তর ও ইনকিলাবের মতো শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তার এই দূরদর্শী অবস্থানকে গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে। তিনি মনে করেন, অনৈক্যই মুসলিম উম্মাহর পতনের মূল কারণ।
দোয়া ও সংহতি বজায় রাখার বিশেষ আহ্বান
মুসলিম উম্মাহকে বেশি বেশি দোয়া করার পাশাপাশি রাজপথে ও নীতিগতভাবে ঐক্য ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ আধ্যাত্মিক শক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক সংহতি ছাড়া কোনো বড় বিজয় অর্জন সম্ভব নয়। তিনি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, শত্রুরা যখন আক্রমণ করে তখন তারা সুন্নি বা শিয়া বিচার করে না, বরং মুসলিম হিসেবেই আঘাত করে। তাই মুসলমানদের উচিত নিজেদের ঘরোয়া বিবাদ মিটিয়ে এক কাতারে শামিল হওয়া। ইনশাআল্লাহ, এই ঐক্যের মাধ্যমেই মজলুম মুসলমানরা তাদের হারানো গৌরব ফিরে পাবে।
