ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট বিধ্বস্ত হয়ে চার সেনার মৃত্যু হয়েছে। কারণ শুক্রবার মার্কিন সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে। বিবিসি'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে উড্ডয়নরত অবস্থায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত ক্ষতি হলো। তাই বর্তমানে ওই এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
![]() |
| প্রতিকী ছবি |
বোয়িংয়ের তৈরি এই রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কারটি মূলত অন্য বিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজ করছিল। কারণ অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি বিমানের মধ্যে এটি যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে ভূপাতিত হয়। সেন্টকম দাবি করেছে যে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে শত্রুপক্ষের কোনো হামলা বা নিজস্ব বাহিনীর ভুলের প্রমাণ তারা পায়নি। তবে দ্বিতীয় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। যেহেতু তদন্ত এখনো চলমান, তাই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ইরানের দাবি ও সংঘাতের নতুন মাত্রা
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে যে, তাদের মিত্র একটি গোষ্ঠী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটিকে ভূপাতিত করেছে। কারণ ইরাকের ওই অঞ্চলে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠী অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। যদিও সেন্টকম প্রথমদিকে দাবি করেছিল যে দুর্ঘটনাটি বন্ধুদেশের আকাশসীমায় ঘটেছে, কিন্তু পরিস্থিতির জটিলতা অন্য সংকেত দিচ্ছে। যদি এটি সত্যিই কোনো হামলা হয়ে থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তথ্যের এই বৈপরীত্য নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
নিহত সেনাদের পরিচয় ও তদন্তের অগ্রগতি
নিহত সেনাদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। কারণ নীতি অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের আগে জানানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় নেওয়া হচ্ছে। সাধারণত এই ধরনের বিমানে পাইলট, কো-পাইলট এবং বুম অপারেটরসহ দক্ষ কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেন। সেন্টকম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের এই দুর্ঘটনার প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে মার্কিন বিমানবাহিনীর পরবর্তী কৌশলগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা।
