ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

মার্কিন নৌবাহিনীর গর্ব 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড'-এর অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে ভয়াবহ বিপর্যয়

লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর দম্ভের প্রতীক পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড'-এর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ সামনে এসেছে। গত মার্চ মাসে ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ঘটা এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সে সময় যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল, সাম্প্রতিক এই ভিডিওটি তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজটি অগ্নিকাণ্ডের ফলে কার্যত একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, যা পেন্টাগনের তথাকথিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবির অসারতা প্রমাণ করেছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর গর্ব 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড'-এর অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে ভয়াবহ বিপর্যয়
 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড'

ঘটনার সূত্রপাত হয় জাহাজের লন্ড্রি রুম থেকে, যেখানে একটি সিস্টেম বিপর্যয়ের ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জাহাজটিতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি অকার্যকর ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী নাবিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে জাহাজটি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। প্রায় ৩০ ঘণ্টা টানা সংগ্রামের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও জাহাজের বিশাল একটি অংশ ভস্মীভূত হয় এবং অন্তত ৬০০ নাবিক তাদের আবাসস্থল হারান।

অগ্নিকাণ্ডের অব্যবহিত পরেই মার্কিন নৌবাহিনী এটিকে একটি নগণ্য ঘটনা হিসেবে প্রচার করেছিল। তবে বর্তমান চিফ অব নেভাল অপারেশনস অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডলের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি ও ফাঁস হওয়া ফুটেজে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র। অগ্নিকাণ্ডের পর জাহাজটি থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা কোনো যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করা সম্ভব হয়নি এবং জাহাজটিকে জরুরি মেরামতের জন্য গ্রিসের সুদা বে নৌঘাঁটিতে স্থানান্তর করতে হয়। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয়ে পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য গোপন করেছিল।

২০১৭ সালে নৌবহরে যুক্ত হওয়া এই রণতরীটি এখন দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডকইয়ার্ডে প্রবেশ করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাহাজটিকে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় সাগরে ভাসাতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘ বিরতি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতিতে যে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করবে, তা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...