লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযানের ধরন ও কৌশল নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) এক টেলিফোন সংলাপে ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে তাকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
![]() |
| ফাইল ফটো |
ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের ধরন অগ্রহণযোগ্য। এ সময় ট্রাম্পের কণ্ঠে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পায় এবং তিনি নেতানিয়াহুর মানসিক অবস্থা ও বর্তমান জনমতের চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় তাকে সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের প্রতি যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সামরিক কার্যক্রম শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলা চালায়। তবে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) হিজবুল্লাহ দমনের আড়ালে লেবাননের ভূখণ্ডে দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসন চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। গাজার পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এবং সেখানে বেসামরিক মানুষের ওপর অমানবিক হামলার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আইডিএফ সেনাদের বিরুদ্ধে লেবাননে চুরি, লুটতরাজ, ধর্ষণ এবং ধর্মীয় প্রতীকের অবমাননার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর থেকেই নেতানিয়াহু সরকার এক চরম কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে। একদিকে মুসলিম বিশ্বের তীব্র প্রতিবাদ, অন্যদিকে পশ্চিমা মিত্রদের সমালোচনায় কোণঠাসা ইসরায়েল।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করছেন, ইসরায়েলের অতি-আক্রমণাত্মক এই নীতি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি ছাড়া অন্য কোনো আলোচনায় তারা অংশ নেবে না।
ফোনালাপের একপর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়ার পেছনে তার রাজনৈতিক প্রভাব কতটুকু কার্যকর ছিল। মূলত, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলাগুলোর কথা ইঙ্গিত করে ট্রাম্প তাকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান শুধুমাত্র সামরিক কৌশলের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং আসন্ন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েলকে একটি নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে আটকে রাখার কৌশলও বটে। যদিও এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহু এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন থামাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
