নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণায় দশ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার এক পৈশাচিক ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের অভিযোগে স্থানীয় এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই দিনে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
![]() |
| প্রতিকী ছবি |
ঘটনার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হলেও সম্প্রতি তার শারীরিক পরিবর্তনের কারণে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়। এই ঘটনায় সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় প্রতিফলিত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অবিলম্বে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবাদের দ্বিমুখী নীতি ও জনমনে প্রশ্ন
অপরাধের ধরন একই হলেও অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তথাকথিত প্রগতিশীল ও সুশীল সমাজের নীরবতা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে যে, অতীতে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মেরুকরণের স্বার্থে যেসব স্থানে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ, ঝাঁঝালো স্লোগান এবং রাজপথ কাঁপানো মিছিল দেখা যেত, আজ সেখানে এক রহস্যজনক নীরবতা বিরাজ করছে।
নেত্রকোণার এই অবুঝ শিশুটির কান্না কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া অন্যান্য যৌন সহিংসতার ঘটনায় তথাকথিত অধিকারকর্মীদের দ্বিমুখী আচরণ আজ জনসমক্ষে স্পষ্ট। সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন:
প্রতিবাদের দলীয়করণ: অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কি প্রতিবাদের ভাষা ও তীব্রতা নির্ধারিত হবে?
সুশীল সমাজের নীরবতা: যারা প্রতিনিয়ত নীতি ও নৈতিকতার দীর্ঘ ভাষণ দেন, ক্ষমতার সমীকরণে আজ তারা কেন নীরব ভূমিকা পালন করছেন?
পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান: অপরাধী যেই হোক না কেন, তার শাস্তি নিশ্চিত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহার করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি সামাজিক মূল্যবোধকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ইসলামিক মূল্যবোধ ও সামাজিক শাশ্বত সংস্কৃতির দাবি হলো, অপরাধীকে কেবলই একজন অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে কঠোরতম শাস্তি প্রদান করা। রাজনৈতিক প্রভাব বা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই জঘন্য মানসিকতার বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ধর্মপ্রাণ ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
