ঢাকা: বর্তমান সরকারের গৃহীত নতুন এক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নৃত্য প্রশিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জনমনে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করার কথা থাকলেও, সরকার হঠাৎ করেই সারাদেশে নৃত্য প্রশিক্ষক নিয়োগের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আগামী ১০ বছরে এই প্রকল্পে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা দেশের প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
![]() |
| ছবি: ইন্টারনেট থেকে |
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জাতীয় সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব ছিল। হিসাব অনুযায়ী, এই ১৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে প্রায় ৩০টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান অথবা প্রায় ২০০টি আধুনিক মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক সংগ্রহ করা যেত, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করত। একটি উন্নয়নশীল দেশে শিশুদের নৈতিক শিক্ষার পরিবর্তে নৃত্যকলায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য কেবল সাংস্কৃতিক বিবর্তন নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও নৈতিক শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। মুসলিম প্রধান এই দেশে ইসলামের আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধকে পাশ কাটিয়ে তরুণ প্রজন্মকে অন্য ধারায় পরিচালিত করার প্রচেষ্টা জাতীয় অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
দেশের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে প্রতিরক্ষা খাতকে অবহেলা করে বিনোদনমূলক প্রকল্প গ্রহণ দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতাই যে কোনো রাষ্ট্রের টিকে থাকার প্রধান শর্ত। উদাহরণস্বরূপ, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির জোরেই বিশ্বরাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। পাকিস্তানের আব্দুল কাদের খানের মতো বিজ্ঞানীদের অবদান সেই দেশের ইতিহাস বদলে দিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ কেবল গতানুগতিক রাজনৈতিক চেতনার বেড়াজালে আটকে থেকে মেধা ও প্রযুক্তির দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
জনমনে বড় একটি ভীতি কাজ করছে যে, রাষ্ট্র যদি তার তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃত আদর্শ থেকে বিচ্যুত করে এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যর্থ হয়, তবে ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের জাতীয় সংকটে দেশ এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তখন বর্তমান নীতিনির্ধারকদের অনেকেই দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবেন, কিন্তু তার চড়া মূল্য দিতে হবে সাধারণ জনগণকে।
শিক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নের নামে এই ধরনের অপচয় রোধ করে রাষ্ট্রকে এখন অগ্রাধিকার নির্ধারণে আরও সতর্ক ও দূরদর্শী হতে হবে। জাতি যখন নৈতিক ও সামরিক শক্তির দিক থেকে শক্তিশালী হবে, তখনই কেবল একটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
