ঢাকা: অবোধ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত পৈশাচিক উপায়ে গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
![]() |
| ছবি সংগৃহীত |
আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। সমাজে চরম নৈতিক অবক্ষয় রোধ, পবিত্র সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধীদের মনে কঠোর বার্তা পৌঁছাতে এই রায়কে একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহল।
নির্মমতার চূড়ান্ত শাস্তি
আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শিশু রামিসা আক্তারকে অত্যন্ত অমানবিক ও পাশবিক নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই জঘন্য ও কাপুরুষোচিত অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মূল আসামি সোহেল রানা এবং তার অপরাধের সমান অংশীদার ও দোসর স্ত্রী স্বপ্না খাতুন—উভয়কেই সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন।
সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়
আমাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো ও ধর্মীয় অনুশাসনের পরিপন্থী এই ধরনের ধিকৃত ও নিষ্ঠুর ঘটনা দেশের বিবেকবান মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। পবিত্র ইসলাম ধর্ম এবং প্রচলিত সামাজিক নীতি যেখানে শিশু ও অবলাদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, সেখানে এমন বিকৃত ও পৈশাচিক অপরাধের বিস্তার সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার জন্য এক বড় হুমকি। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ধর্মীয় অনুশাসন থেকে বিচ্যুতি ও নৈতিক শিক্ষার চরম অভাবের কারণেই সমাজে এই ধরনের পাশবিক অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। অপরাধীদের এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে শান্তি ও নৈতিকতা পুনর্বহালের পথকে সুগম করবে।
ন্যায়বিচার ও সন্তোষ প্রকাশ
আজ রায় ঘোষণার সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বিজ্ঞ বিচারক রায়ের মূল অংশ পাঠ করার পর আসামিদের সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই রায়ের মাধ্যমে নির্যাতিতা অবোধ শিশুর পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই কঠোর শাস্তি সমাজে অপরাধ প্রবণতা দমনে এবং পবিত্র সামাজিক মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
