ঢাকা: ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক পুশ ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের চক্রান্ত নস্যাৎ করতে বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দেশের ২৬টি সীমান্তবর্তী জেলায় প্রায় ৬০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে কঠোর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এই ব্যাপক প্রস্তুতি দেশের সর্বস্তরের জনগণের মাঝে সুদৃঢ় আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
![]() |
| সীমান্তে ভারতের অবৈধ পুশ ইন চেষ্টা |
বিজিবি সদর দফতর ও সীমান্ত সূত্র জানিয়েছে, ভারত থেকে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর অপচেষ্টা ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চার পালায় (শিফট) বিভক্ত হয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের সীমানা রক্ষা ও পবিত্র মাতৃভূমির সুরক্ষায় নিয়োজিত বিজিবির এই দেশপ্রেমিক তৎপরতায় স্থানীয় সীমান্ত অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ ও সচেতন সাধারণ বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহযোগিতা প্রদান করছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মাত্র চার দিনে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিএসএফের অন্তত ২১টি পুশ ইন প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব ঘটনায় প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অন্যায় চক্রান্ত করা হয়েছিল, যা সীমান্তরক্ষীদের সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়। ভারতের পাঁচটি রাজ্য সংলগ্ন বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের সম্ভাব্য সব ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট ইতিমধ্যে চিহ্নিত করে নিরাপত্তা তৎপরতা সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে।
এদিকে, সীমান্তে এই উদ্ভূত ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মাঝেই আগামী ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চার দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ড বন্ধ, অবৈধ অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাসহ দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে জোরালো আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
