দেশের আর্থিক লেনদেনের চিত্র বদলে দেওয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস (MFS) বর্তমানে কোটি কোটি মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ধারায় এই খাতটি এখন অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। গ্রাহকপ্রিয়তা, সেবার পরিধি এবং লেনদেনের সহজলভ্যতার ভিত্তিতে বাজারে বর্তমানে বিকাশ, নগদ এবং রকেট—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি।
![]() |
| ফাইল ফটো |
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই খাতের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান অটুট রেখেছে বিকাশ। ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করা বিকাশ মূলত তাদের বিস্তৃত এজেন্ট নেটওয়ার্ক এবং শক্তিশালী ইকোসিস্টেমের কারণে গ্রাহকদের প্রথম পছন্দ। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত যেকোনো লেনদেনের জন্য বিকাশের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা প্রশ্নাতীত। তাদের অ্যাপের আধুনিক ইন্টারফেস এবং মার্চেন্ট পেমেন্টের বিশাল সুযোগ গ্রাহকদের ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করে তুলেছে।
অন্যদিকে, বাজার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ডাক বিভাগের ডিজিটাল সেবা ‘নগদ’। বাজারে আসার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি দ্রুত বর্ধনশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাশ্রয়ী ক্যাশ-আউট চার্জ এবং অত্যন্ত সহজে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধার কারণে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে নগদ দারুণ জনপ্রিয়। সরকারি বিভিন্ন ভাতা ও উপবৃত্তি বিতরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের ফলে সরকারের সাথে জনগণের ডিজিটাল সেতুবন্ধন তৈরিতেও নগদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে, দেশের প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা হিসেবে রকেট তার নিজস্ব স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বিশাল এটিএম বুথ নেটওয়ার্কের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকায় নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে রকেট গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। করপোরেট স্যালারি প্রদান, বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল এবং ব্যাংকিং খাতের সাথে সমন্বিত লেনদেনের ক্ষেত্রে এখনো অনেক গ্রাহক রকেটকেই প্রাধান্য দেন।
এছাড়াও বাজারে উপায়, এমক্যাশ এবং ট্যাপের মতো সেবাসমূহ নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এমক্যাশ বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অভ্যস্ত গ্রাহকদের মধ্যে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং খাত এখন চরম প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিকাশ যেখানে তার বিশাল নেটওয়ার্ক ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে নগদ তাদের খরচ কমিয়ে গ্রাহক টানছে, আর রকেট তার ব্যাংকিং অবকাঠামোকে পুঁজি করে বিশ্বস্ততা ধরে রেখেছে। এই তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতার ফলে গ্রাহকরা পাচ্ছেন আরও উন্নত ও সাশ্রয়ী সেবা, যা পরোক্ষভাবে দেশের সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় ধরনের অবদান রাখছে। ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি এই এমএফএস খাতটি কীভাবে আরও উদ্ভাবনী ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
