ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

কানাইঘাটে নিজ মাদ্রাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী রাহিমাহুল্লাহ; জানাজায় জনতার ঢল

সিলেটের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও শিক্ষানুরাগী অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী রাহিমাহুল্লাহকে শেষ বিদায় জানালেন হাজারো শোকার্ত মানুষ। শনিবার (১৩ জুন) বাদ আসর কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়িতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাঁকে সেখানেই দাফন করা হয়েছে।

কানাইঘাটে নিজ মাদ্রাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী রাহিমাহুল্লাহ; জানাজায় জনতার ঢল
জানাযায় উপস্থিত হাজারো মানুষের ঢল 

মরহুমের জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর একমাত্র ছেলে মাওলানা নাজমুস সাকিব। জানাজাপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দ্বীনি শিক্ষার এক অবিসংবাদিত কাণ্ডারি। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন নির্লোভ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারাল।

জানাজায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার ও কিডনিজনিত জটিলতায় ভোগা এই আলেমে দ্বীন গত মে মাস থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সর্বশেষ দুইদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র ও ৪ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৪৬ সালের ডিসেম্বর মাসে কানাইঘাটের তালবাড়িতে জন্মগ্রহণকারী মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘের সিলেট জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে তিনি নিজ এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখেন।

শিক্ষা বিস্তারে তাঁর ভূমিকা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। আশির দশকে তাঁর হাত ধরেই সিলেটে জামেয়া ইসলামিয়া মিরাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তিনি দি সিলেট ইসলামিক সোসাইটি, পাঠানটুলা জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা ও আল-আমিন জামেয়া ইসলামিয়াসহ অসংখ্য দ্বীনি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেটসহ সারাদেশে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সিলেট অঞ্চলের ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে তাঁর এই শূন্যতা দীর্ঘকাল অনুভূত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...