ঢাকা: পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আমলে আইনের চরম অপপ্রয়োগ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর সাইবার স্পেস সংক্রান্ত দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী মীর জাহান।
![]() |
| ফাইল ফটো |
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত শাসনামলে আইনকে কেবল ভিন্নমত দমন এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। একই সাথে, রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ ধারার অনুপস্থিতি এবং সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই মানবাধিকার কর্মী।
বিবৃতিতে মীর জাহান উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আইন ছিল সম্পূর্ণ একপেশে। সেই সময়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং ঐতিহ্যবাহী ও আদর্শিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত কুৎসা রটনা ও অশালীন মন্তব্য করা হলেও আইন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী বা তাদের তোষামোদকারীদের নিয়ে সামান্য সমালোচনা করলেই জনগণের ওপর নেমে আসতো রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও কঠোর আইনি সাজা।
বর্তমান রাজনৈতিক চালচিত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদের দেখানো পথেই হাঁটার চেষ্টা করছে। সাইবার স্পেসে নোংরামি বন্ধের লক্ষ্যে বিএনপির আইন প্রণয়নের ঘোষণার প্রতি ইঙ্গিত করে মীর জাহান বলেন, এই আইনের সংজ্ঞা অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং স্বার্থান্বেষী। তিনি অভিযোগ করেন, এই আইন কেবল নিজেদের দলের নেতাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ভাবা হচ্ছে। অথচ একই সাইবার স্পেসে যখন জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষ করে নারী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে চরম অশালীন ও কুৎসিত অপপ্রচার চালানো হয়, তখন তা আইনের পরিপন্থী মনে করা হয় না।
মানবাধিকার কর্মী মীর জাহান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধকে কোনোভাবেই আপেক্ষিক দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরিবারের নারীদের প্রতি সামাজিক মর্যাদা ও সুরক্ষা সমানভাবে নিশ্চিত হওয়া উচিত। কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের কন্যার প্রতি সহানুভূতি দেখানো আর অন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নারীদের প্রতি অশালীন আচরণকে মৌন সম্মতি দেওয়া চরম বিবেকহীনতা ও দ্বিমুখী নীতি। তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের এই নৈতিক স্খলন ও সংকীর্ণ মানসিকতা পরিহার করে সমাজে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ইসলামী ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
