পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা: রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৪২ কিলোমিটার উত্তরের শান্ত জনপদ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বর্তমানে এক গভীর রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সংলগ্ন এই এলাকায় একের পর এক বিশাল আকৃতির মূর্তি নির্মাণের মহোৎসব স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ২৮ ফুটের শিব এবং ৫৩ ফুটের কৃষ্ণের পর এবার রামমূর্তি নির্মাণের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের কাছে কেবল ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কোনো ‘ট্রোজান হর্স’ বা গভীর কোনো নীলনকশা কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
![]() |
| আমার দেশ অনুসন্ধান |
অশুভ ছায়ার নেপথ্যে হরিদাস চন্দ্র তরণী
এই বিতর্কিত প্রকল্পের মূল কারিগর হরিদাস চন্দ্র তরণী, যার জীবনবৃত্তান্ত যেকোনো থ্রিলার গল্পকেও হার মানায়। এক সময় এসি মেরামতের ছদ্মবেশে গণভবনের অন্দরে অবাধ যাতায়াত ছিল তার। অতীতে ‘মুসলমান’ পরিচয় ধারণ করে প্রতারণার দায়ে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া হরিদাসের এমন অস্বাভাবিক উত্থান ও বিলাসবহুল কর্মকাণ্ড গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কপালে ভাঁজ ফেলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবজি সাপ্লাইয়ের নামে কোটি টাকা আয়ের দাবি করলেও তার কোনো বৈধ নথি তিনি দেখাতে পারেননি। এছাড়া উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে তার রহস্যময় সখ্য ও ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়টি প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একজন সাধারণ মেকানিক নন, বরং ক্ষমতার পর্দার আড়ালের এক কুশীলব।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ঝুঁকি ও বিদেশি গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা
স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের আশঙ্কা, এই বিশাল স্থাপনাগুলোর আড়ালে বিদেশি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র রয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে বিদেশি কূটনীতিকদের ঘন ঘন যাতায়াত এবং প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে যেভাবে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে, হরিদাসের তিন ভাই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করায় এবং তার ভারত থেকে ফিরে আসার পর উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্যে গোয়েন্দারা গভীর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রশাসনিক কঠোরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন গত ১১ জুন গাইবান্ধায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে। সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলমান এই আকাশচুম্বী মূর্তি নির্মাণের কাজ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করেছেন। হরিদাসের আয়ের উৎস, মানি লন্ডারিংয়ের সম্ভাবনা এবং ভারতের সাথে তার রহস্যময় সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এখন জোর তদন্ত চলছে।
পলাশবাড়ীর এই মন্দির কমপ্লেক্স বর্তমানে কঠোর সিসিটিভি নজরদারিতে রয়েছে। মন্দিরে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের রহস্যময় যাতায়াত এবং হরিদাসের অসংলগ্ন বয়ান তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। হরিদাসের এই মহাপরিকল্পনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই অশুভ ছায়া খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি এখন সময়ের দাবি।
