ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

জিসান ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে সরকারের আচরণে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি: গভীর উদ্বেগে সচেতন মহল

ঢাকা: সম্প্রতি জিসান নামক এক শিবির নেতাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকা, ইসলামী ব্যাংক ও আদ-দ্বীন হাসপাতালের ওপর নানামুখী চাপ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া অস্থিরতায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সচেতন ও ঐতিহ্যবাদী মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ বছরের দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসানের পর গঠিত নতুন সরকারের কিছু কর্মকাণ্ডে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের নগ্ন পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

জিসান ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে সরকারের আচরণে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি: গভীর উদ্বেগে সচেতন মহল
সংগৃহিত ছবি 

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, একটি স্পর্শকাতর মামলায় অভিযুক্ত জিসানের দোষ বা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার শেষ হওয়ার আগে কাউকেই অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। অথচ এই মামলায় আসামিকে নজিরবিহীনভাবে হেলমেট পরিয়ে, ডজনখানেক পুলিশি প্রহরায় পেছনের পথ দিয়ে আদালতে তোলার ঘটনা ঘটেছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ জাতীয় মামলায় আসামিকে এভাবে উপস্থাপন করা এবং পুলিশি হেফাজতে রেখে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার কোনো আইনগত বা ঐতিহাসিক রীতি নেই। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকার অত্যন্ত নিখুঁত ও কুৎসিত এক রাজনৈতিক খেলায় লিপ্ত হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে ঐতিহ্যবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সুকৌশলে টার্গেট করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত-শিবির যদি এই অন্যায় প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তবে সরকার ও একটি বিশেষ মহল অপপ্রচার চালাবে যে তারা অপরাধের পক্ষে কথা বলছে। আর যদি দলটি চুপ থাকে, তবে জিসানকে ঢাল বানিয়ে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী ও পরিকল্পিত নোংরামি চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংক, ঐতিহ্যবাহী সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান আদ-দ্বীন হাসপাতাল এবং জিসান প্রসঙ্গ—এই তিনটি ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা মূলত জামায়াতে ইসলামীকে সরাসরি আঘাত করার শামিল। বিগত ১৭ বছর ধরে চরম জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়া একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে ধৈর্যের চরম পরীক্ষা দিচ্ছে। সরকারের এই উসকানিমূলক আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা নিজেরাই বিরোধী দলকে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য করছে। দীর্ঘ সময় ধরে মজলুমের ভূমিকায় থাকা একটি শক্তি ক্ষমতার কাছাকাছি এসে মাত্র তিন মাসে কীভাবে পূর্ববর্তী জালেমদের মতো আচরণ শুরু করতে পারে, তা দেশের সাধারণ মানুষকে বিস্মিত ও হতবাক করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশে যদি এভাবে প্রচ্ছন্ন ফ্যাসিজম চলতে থাকে, তবে অচিরেই জামায়াতসহ দেশের সকল বিরোধী দল আবারও রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে। আর এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সেই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তারাও তখন সরকার পতনের আন্দোলনে শামিল হয়ে দেশের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ কোনোভাবেই এমন বিশৃঙ্খলা কামনা করে না।

এমতাবস্থায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক কাদা-ছোড়াছুড়ি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উসকানি বন্ধ হওয়া জরুরি। বিশেষ করে, জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোর উচিত পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া বা কোন্দল সৃষ্টির অভ্যাস থেকে সরে এসে দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা, যাতে দেশ সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালিত হতে পারে।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...