ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

বিজেপির জয় বনাম বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন: বিপুল সাফল্যের অন্তরালে কি ‘অস্বস্তির কাঁটা’?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক জয় নিয়ে যখন দেশজুড়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, তখন এই সাফল্যের নেপথ্যে ‘নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডটইন-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজেপির জয়ী ১০৫টি আসনেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা দলটির জয়ের ব্যবধানের চেয়েও অনেক বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বিশাল সংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই বিতর্কিত প্রক্রিয়া নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে থাকতে পারে।

বিজেপির জয় বনাম বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন: বিপুল সাফল্যের অন্তরালে কি ‘অস্বস্তির কাঁটা’?

গত ৪ মে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। বিপরীতে, গতবারের বিজয়ী তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ২১৫ থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৮০টিতে। তবে বিজেপির এই ‘বাংলা জয়’ যতটা না রাজনৈতিক মেরুকরণের ফল, তার চেয়েও বেশি ভোটার তালিকার মারপ্যাঁচে অর্জিত কি না—সেই বিতর্ক এখন তুঙ্গে।

স্ক্রল ডটইন এবং কলকাতার পাবলিক পলিসি রিসার্চ সংস্থা ‘সাবার ইনস্টিটিউট’-এর যৌথ তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য:

 অর্ধেক আসনেই প্রশ্নবিদ্ধ জয়: বিজেপির জেতা ২০৭টি আসনের মধ্যে ১০৫টিতেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তির সংখ্যা বিজেপির জয়ের ব্যবধানকে ছাড়িয়ে গেছে।

 নতুন আধিপত্য: এই ১০৫টি আসনের মধ্যে অন্তত ৮৬টি আসন এমন, যেখানে বিজেপি ইতিপূর্বে কখনোই জয়লাভ করেনি।

 বিশাল সংখ্যক ভোটার কর্তন: নির্বাচনের আগে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ।

পশ্চিমবঙ্গের এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। এই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের ভাগ্য এখনও বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। উল্লেখযোগ্য যে, রাজ্যের প্রায় সব রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও একমাত্র বিজেপি শুরু থেকেই একে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছিল। সমালোচকদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট জনসমষ্টিকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করার মাধ্যমেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে থাকা জনমতকে ফলাফলে রূপান্তর করা সহজ হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যে একটি প্রবল ‘প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাব’ বিদ্যমান ছিল, যার প্রতিফলন ঘটেছে তৃণমূলের আসন বিপর্যয়ে। তবে ভোটার তালিকা থেকে ১২ শতাংশ ভোটারের নাম উধাও হয়ে যাওয়া এই পরাজয়ের মাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।

আদর্শিক ও নৈতিক জায়গা থেকে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার হরণকে গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। বিশেষ করে যেখানে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা, সেখানে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনমতের প্রতিফলনকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে কি না—সেই অস্বস্তি এখন বিজেপির এই বড় জয়ের সঙ্গী হয়ে রইল।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...