রাজনৈতিক কারণে মধ্যরাতে পরোয়ানা ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। গত ৫ এপ্রিল রাতে ভোলা থেকে জামায়াত কর্মী সাওদা সুমিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এই কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। যদিও সাওদা সুমিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং এই ঘটনার ইন্ধনদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। শত শত নারী নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এই মানববন্ধন সরকারের দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদে পরিণত হয়।
![]() |
| মহিলা জামায়াতের মানববন্ধন |
সরকারের দ্বিমুখী নীতি ও জনদুর্ভোগের চিত্র
সংবিধানের দোহাই দিয়ে সরকার নিজের স্বার্থ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করছে। কারণ মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, নির্বাচনের সময় সংবিধানের বাইরে গিয়ে কাজ করলেও এখন আন্দোলনের সময় সরকার বারবার সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে। নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, এই দ্বিমুখী নীতি সরকারকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। এছাড়া দেশে বর্তমানে তীব্র তেল ও গ্যাস সংকট বিরাজ করছে এবং পেট্রোল পাম্পগুলোর দীর্ঘ লাইন জনগণের চরম দুর্ভোগের প্রমাণ দিচ্ছে। তাই সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলোর সাথে আলোচনায় বসার পরিবর্তে সরকার কেবল দমন-পীড়নে ব্যস্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
![]() |
| মানব বন্ধনের একাংশ |
নতুন জেনারেশন ও আন্দোলনের অঙ্গীকার
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে 'জেন জি' এর মায়েরা রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। কারণ বর্তমান সরকারের ৫১ দিনের কর্মকাণ্ডে নতুন ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলে জামায়াত নেত্রীরা দাবি করেন। বিশেষ করে অটিস্টিক শিশুর মাকে মধ্যরাতে শিশু থেকে বিচ্ছিন্ন করে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। কর্মসূচিতে ৮ দফা দাবি পেশ করা হয়, যার মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি উল্লেখযোগ্য।
৮ দফা দাবির সারসংক্ষেপ
সরকারের উদাসীনতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধে জামায়াত মহিলা বিভাগ সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে। কারণ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুম সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স পুনর্বহাল করা এখন সময়ের দাবি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: সাওদা সুমির মামলা প্রত্যাহার, মধ্যরাতে তল্লাশি বন্ধ, সাইবার বুলিংকারীদের শাস্তি, তেল-গ্যাস সংকট সমাধান এবং বিএনপির হামলার বিচার নিশ্চিত করা। এছাড়াও গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী দ্রুত সংবিধান সংস্কারের দাবি জানানো হয়। এই দাবিগুলো মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।

