ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ ও পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাইয়ের ওপর বিধিনিষেধের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের তীব্র নিন্দা

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্বাচন-উত্তর পরিকল্পিত সহিংসতা এবং সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত সরকার কর্তৃক কঠোর বিধিনিষেধের অজুহাতে পরোক্ষভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ১৫ মে (শুক্রবার) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ ভারতকে তার অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক অবস্থান থেকে সরে এসে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ ও পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাইয়ের ওপর বিধিনিষেধের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের তীব্র নিন্দা

যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন, “গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার ভারতে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার, খাদ্যাভ্যাস ও বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের ওপর ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানা হচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার কর্তৃক রাস্তাঘাট বা উন্মুক্ত স্থানে গবাদিপশু জবাই নিষিদ্ধ করা এবং তথাকথিত ফিটনেস সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এটি মূলত মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলার একটি বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে সামনে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। এমন সময়ে এই অবাস্তব বিধিনিষেধ জারি করা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত হানার শামিল।”

বিবৃতিতে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচন-উত্তর সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভয়াবহ জুলুম-নির্যাতন শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (APCR)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের পরপরই কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলমানদের লক্ষ্য করে ৩৪টিরও বেশি সুপরিকল্পিত সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অসংখ্য মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি পবিত্র মসজিদে বর্বরোচিত হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, যা চরম নিন্দনীয়।”

ভারতের কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠীর মুসলিমবিদ্বেষী নীতি ও দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্রের সমালোচনা করে ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতৃদ্বয় আরও বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ভারতে উগ্রপন্থী শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। আসামে বিতর্কিত এনআরসি ও সিএএ আইনের মাধ্যমে লাখ লাখ মুসলিমকে নাগরিকত্বহীন করার ষড়যন্ত্র, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করে উপত্যকাটিকে অবরুদ্ধ কারাগারে পরিণত করা, ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বিতর্কিত ‘ওয়াকফ বিল’-এর মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পদ কেড়ে নেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রাচীন মসজিদ ও উপাসনালয় ভাঙচুর ও দখলের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। ভারতের মাটিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান এই পদ্ধতিগত নির্যাতন এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর চলমান সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান এবং কুরবানির প্রাক্কালে গরু জবাইয়ের ওপর জারি করা বৈষম্যমূলক কালো আইন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ভারতীয় মুসলিমরা আজ একা নন; বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মুসলিম উম্মাহ তাদের পাশে রয়েছে এবং গভীরভাবে তাদের এই পরিস্থিতির প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।”

বিবৃতির শেষাংশে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ, ওআইসি (OIC), আরব লীগসহ সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ববাসীকে ভারতের মাটিতে মুসলমানদের ওপর চলমান এই জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর, জোরালো এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...