ডাকসু ভিপি সাদিক কাইয়্যেম জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ স্থগিত চেয়ে রিট করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই রিটের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই আইনি লড়াইয়ের পেছনে সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। তাই তিনি এই পদক্ষেপকে জুলাইয়ের শহীদানদের রক্তের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই সংস্কার প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
![]() |
| ডাকসু ভিপি সাদিক কাইয়্যেম |
রিটের বিষয়বস্তু ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
রিটে জুলাই সনদ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথ গ্রহণকে অবৈধ দাবি করে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। কারণ একটি পক্ষ চায় না যে জুলাই বিপ্লবের অঙ্গীকারগুলো আইনি ভিত্তি পাক বা কোনো স্থায়ী সংস্কার আসুক। সাদিক কাইয়্যেম স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই রিটের পেছনে বর্তমান সরকারের স্পষ্ট মদদ রয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি গণতান্ত্রিক ও সংস্কারমুখী রাষ্ট্র গঠনে যারা বাধা দিচ্ছে, তাদের চিনে রাখা জরুরি। তাই তিনি এই রিটকে রাষ্ট্র সংস্কারের পথে একটি নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বিএনপি সরকারের অবস্থান ও জাতির সাথে গাদ্দারি
জুলাই সনদ ও গণভোট প্রশ্নে বিএনপি সরকারের বর্তমান অবস্থানকে 'জাতির সাথে গাদ্দারি' বলে আখ্যা দিয়েছেন ভিপি সাদিক। কারণ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান না থাকলে আজকের এই নির্বাচন বা সরকারের কোনো বৈধতা থাকত না। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ছাত্র-জনতার ত্যাগের ফলেই আজ তারা ক্ষমতায় বসার সুযোগ পেয়েছেন। তাই বিপ্লবের ফসল ঘরে তোলার আগেই সংস্কারের পথ রুদ্ধ করা হলে তা ঐতিহাসিক ভুল হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মতোই বাংলাদেশের সংস্কারের জন্য যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছিল, তা রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
সরকারের প্রতি সুস্পষ্ট আহ্বান ও আগামী দিনের সতর্কবার্তা
জুলাইয়ের শহীদানদের রক্ত শুকানোর আগেই রাষ্ট্র সংস্কারে নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি। কারণ সংস্কার বাধাগ্রস্ত হলে জুলাইয়ের গণভোট ও সনদের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে, যা প্রকারান্তরে সরকারের পতন ডেকে আনতে পারে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, জুলাই না থাকলে এই সরকারের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তাই দ্রুত এই ষড়যন্ত্রমূলক রিট প্রত্যাহার করে সংস্কারের পথে হাঁটার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে নামার আগেই সরকারকে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
