সাবেক উপদেষ্টার বিস্ফোরক মন্তব্য
সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতা নিয়ে স্পর্শকাতর মন্তব্য করেছেন। জামায়াত নারীর সমান অধিকারে বিশ্বাসী নয়, তাই তাদেরকে মূলধারার রাজনীতিতে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন যে, "আমরা" জামায়াতকে সরকার গঠন করতে দিইনি। এই বক্তব্যটি বর্তমান রাজনৈতিক মহলে তীব্র ঝড়ের সৃষ্টি করেছে কারণ এটি সরাসরি একটি নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
![]() |
| সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান |
‘আমরা’ আসলে কারা?
রিজওয়ানা হাসানের উল্লিখিত "আমরা" শব্দটির পেছনে এক শক্তিশালী জোটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। লেখক ড. আবুল কালাম আজাদের মতে, এই প্রক্রিয়ার প্রধান কারিগর হলেন ডক্টর ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ। তবে তাদের এই মিশনে নেপথ্যে থেকে সহায়তা করেছে কয়েকটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক শক্তি। এই তালিকায় রয়েছে তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ এবং প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি।
আলেম সমাজের রহস্যময় ভূমিকা
ইসলামপন্থী রাজনীতিকে রুখে দিতে কিছু আলেম ও ধর্মীয় নেতার ভূমিকা আজ বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, ড. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী এবং চরমোনাই পীরসহ আরও অনেক আলেম এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। মাও. জুনায়েদ আল হাবিব ও মাও. মনির কাসেমীর মতো ব্যক্তিদের নামও এখানে উঠে এসেছে। তারা ‘আহলে হক’ হওয়ার দাবি করলেও ইসলামপন্থীদের পথ রোধ করতে রিজওয়ানাদের সাথে শামিল হয়েছেন।
আদর্শিক সংঘাত ও নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং
ইসলাম বনাম ধর্মনিরপেক্ষতা
বিএনপি একটি ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করে না বলেই তারা নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে সরব। ড. ইউনূস এবং রিজওয়ানা হাসানও একই আদর্শের অনুসারী হওয়ায় তারা জামায়াতকে নয়, বরং ইসলামকেই প্রতিপক্ষ মনে করেন। এই আদর্শিক অবস্থানের কারণেই তারা কৌশলে ইসলামপন্থীদের ক্ষমতার মূলধারা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। ইসলামকে ঠেকানোর এই লড়াইয়ে তারা আধুনিকতা ও নারী অধিকারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
শপথ ভঙ্গ ও আইনি পদক্ষেপের আহ্বান
নির্বাচনকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সরাসরি শপথ ভঙ্গের শামিল। রিজওয়ানা হাসানের এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে গভীর ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচনী কারসাজি চলেছে। নিরপেক্ষতার লেবাস পরে একটি দলকে ক্ষমতায় আসতে না দেওয়া জনমতের চরম অবমাননা। তাই এই গুরুতর অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে রিজওয়ানার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
