ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবরের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ গত শনিবার থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় অনেক কর্মকর্তা ও কমান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই অপূরণীয় ক্ষতির প্রতিশোধ নিতে তেহরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অভিযান শুরু করেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। পুরো বিশ্ব এখন রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছে এই সংঘাতের পরিণতির দিকে।
![]() |
| শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি |
আইআরজিসি-র ছয় দফার ‘প্রতিশোধ’ অভিযান
ইরানি বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। কারণ আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের তেল আবিব এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চলগুলোও তাদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ছয় দফার এই বড় মাপের হামলায় তারা আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বেইজিং বা মস্কোর মতো শক্তিগুলোও এই আকস্মিক সংঘাতের তীব্রতায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন সেন্টকমের বক্তব্য ও ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটিতে হামলার খবর স্বীকার করলেও কোনো প্রাণহানির কথা অস্বীকার করেছে। কারণ পেন্টাগন মনে করে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ইরানি আঘাত রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ইরান যদি পুনরায় কোনো হঠকারী আক্রমণ চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত করবে যা পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি। তাই দুই দেশের মধ্যে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের বাগযুদ্ধ ও রণপ্রস্তুতি চলছে।
ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও বিশ্ব নিরাপত্তা
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু ইরানকে এক চরম নেতৃত্ব সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা দেশটিকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলছে। কারণ দিশেহারা অবস্থায় ইরানি কমান্ডারেরা এখন যেকোনো মূল্যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সম্মিলিত সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানকে পুরোপুরি কোণঠাসা করতে চায়। এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এক অপূরণীয় ধস নামতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো লক্ষণই এখন দিগন্তে দেখা যাচ্ছে না।
