ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে ইসলামী বিশ্বকে এরদোয়ানের জরুরি আহ্বান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীলতা নিরসনে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার ডাক দিয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন, এই অঞ্চলে সংঘাতের বিস্তার রোধ করতে হলে ইসলামী বিশ্বের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরদোয়ান শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। তাই তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। বেইজিং বা ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতার চেয়েও তিনি মুসলিম দেশগুলোর নিজস্ব উদ্যোগকে বেশি কার্যকর মনে করছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে ইসলামী বিশ্বকে এরদোয়ানের জরুরি আহ্বান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা

সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। কারণ তার মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর একতরফা ও আক্রমণাত্মক নীতি। এরদোয়ান সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, নেতানিয়াহুর হঠকারী কর্মকাণ্ডই মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই তিনি এই ধরনের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই ইসরায়েলকে বারবার এই দুঃসাহস দেখাচ্ছে।

ইরানের হামলার বিষয়ে তুরস্কের স্পষ্ট অবস্থান

উপসাগরীয় ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করে না তুরস্ক। কারণ এরদোয়ান মনে করেন, ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাত কেবল শত্রুদেরই সুবিধা করে দেয়। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, হামলার কারণ যাই হোক না কেন, সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন কখনও সমর্থনযোগ্য নয়। তাই তিনি ইরানকেও সংযত হওয়ার এবং আঞ্চলিক ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। বেইজিংয়ের প্রভাব বলয় থেকে বের হয়ে এই অঞ্চলে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে গভীর সংহতি থাকা জরুরি বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক তৎপরতার ভবিষ্যৎ

আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের জন্য তুরস্ক এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। কারণ এরদোয়ান বিশ্বাস করেন যে, অস্ত্রের চেয়ে কূটনৈতিক টেবিলই বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মুসলিম দেশগুলোর একটি জরুরি সম্মেলন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন যাতে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা পায়। তাই আগামীর দিনগুলোতে আঙ্কারা তাদের এই শান্তি মিশনকে আরও বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই সংকট সমাধানে এরদোয়ান এখন সব পক্ষকে একজায়গায় আনার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...