জেলা পরিষদে ৪২ জন দলীয় প্রশাসক নিয়োগের কঠোর সমালোচনা ও বিবৃতি।
![]() |
| মিয়া গোলাম পরওয়ার |
সদ্য গঠিত বিএনপি সরকার কর্তৃক ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। কারণ ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপনকে জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মনে করছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার শুরুতেই ভুল পথে হাঁটছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করছে। তাই এই সিদ্ধান্তকে তিনি জনগণের ভোটাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, এটি ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটি অপচেষ্টা মাত্র।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা এবং গণতন্ত্রের সংকট
জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা। কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকারেও নির্বাচিত প্রতিনিধি আসবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যেখানে নির্বাচন কমিশন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছিল, সেখানে প্রশাসক নিয়োগ একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তাই এটি জুলাই বিপ্লবের শহীদের রক্তের সাথে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা বলে তিনি দাবি করেন। এই পদক্ষেপের ফলে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বরং এতে জনমনে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি ও আন্দোলনের আহ্বান
অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিল করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। কারণ অগণতান্ত্রিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া এই ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্যই বুমেরাং হতে পারে। সেক্রেটারি জেনারেল মনে করেন, এটি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার এবং আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ। তাই তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই এখন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
