সমঝোতার গোপন রাজনীতি
বিএনপি এককভাবে জিততে পারবে না জেনেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে বলে দাবি করেছেন এনসিপি নেতা সার্জিস আলম। ২০২৬ সালের নির্বাচনী চিত্র নিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন। কারণ মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বিএনপির অনুকূলে ছিল না। তাই তারা প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছে। তারা অপরাধীদের জামিন ও সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে প্রশাসন ও বিদেশি এজেন্টদের নিয়ে একটি পরিকল্পিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
শহীদদের সঙ্গে তামাশা
আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতিকে সঙ্গে নিয়ে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোকে মশকরা বলে অভিহিত করেছেন সার্জিস। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী দলের প্রতিনিধিকে গ্রহণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এই দলটিই আমাদের মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। তাই শহীদ বীরদের সম্মানে এমন আচরণ এক বিশাল আঘাত। বরং এটি বিপ্লবের চেতনাকে অপমান করার শামিল।
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও বিএনপির দায়
১৭ বছর নির্যাতিত হওয়ার পর বিএনপি এখন আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে যা চরম হতাশাজনক। তারেক রহমানকে নির্বাসনে পাঠানো এবং বেগম জিয়াকে জেল খাটানো দলের সঙ্গেই তারা আজ হাত মিলিয়েছে। বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হওয়া জেল-জুলুমের কথা ভুলে গেছে। তাই ভবিষ্যতে যদি কোনো তৃণমূল কর্মী আবার আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতিত হয়, তবে তার দায় তারেক রহমানকেই নিতে হবে। কারণ তার নেতৃত্বেই এই আপসকামিতা চলছে।
রাজপথের সহযোদ্ধাদের নিরাপত্তা
জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো সহযোদ্ধা যদি আবার রক্তাক্ত হয়, তবে তার জন্য বিএনপি দায়ী থাকবে। বিপ্লবীরা রাজপথে রক্ত দিয়েছিল একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের আশায়। অথচ বিএনপি সেই খুনিদের সঙ্গে নিয়েই আজ ক্ষমতায় বসার স্বপ্নে বিভোর। তাই তারেক রহমানের এই পদক্ষেপকে ধিক্কার জানিয়েছেন সার্জিস আলম। সচেতন মানুষ এই অপরাজনীতি মেনে নেবে না।
