বর্তমান সংকট ও আস্থাহীনতা
চাঁদাবাজির ভয়াবহ বিস্তার দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গভীর আস্থাহীনতা তৈরি করছে। সোমবার মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কারণ ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও চাঁদাবাজির মাত্রা কমেনি, বরং কোথাও কোথাও তা ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তাই দ্রুত এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা
নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো এখনো পাহাড়সম হয়ে আছে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ জানান, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। কারণ বিনিয়োগ কমছে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে অগ্রগতি খুবই সামান্য। বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জ্বালানি সংকট শিল্প উৎপাদনকে আরও জটিল করে তুলেছে।
চাঁদাবাজির শিকড় ও প্রশাসনের ভূমিকা
প্রভাবশালী মহলগুলো প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে বা রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। তাসকীন আহমেদের মতে, সরকার পরিবর্তন হলেও চাঁদা আদায়ের সংস্কৃতি মোটেও বদলায়নি। শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন—সবখানেই এখন চাঁদা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দমনে কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব।
এলডিসি উত্তরণ ও ঋণের বোঝা
এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্তকে ব্যবসায়ীরা স্বাগত জানালেও বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তিগুলো নিয়ে অসন্তুষ্ট। কারণ একটি অপ্রকাশিত চুক্তির (এনডিএ) ফলে ব্যবসায়ীরা পূর্ণাঙ্গ শুল্ক সুবিধা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, ঋণের সুদহার ১৬-১৭ শতাংশে উঠে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই উচ্চ সুদ এবং গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানা এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
উত্তরণের চার সুপারিশ
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ব্যবসায় ফেরার সুযোগ দিতে হবে।
চতুর্থত, ঋণের সুদের হার একটি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।
