গণভোটের রায় অবমাননার অভিযোগ
নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন যে বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে শপথ পরবর্তী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই কড়া সমালোচনা করেন। কারণ জুলাই জাতীয় সনদের আদেশে স্পষ্ট ছিল যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের শপথ একই অনুষ্ঠানে হবে। তাই সরকারি দলের এই একতরফা সিদ্ধান্তকে তিনি আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরির অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। বরং সরকার গঠনের প্রথম দিনেই তারা জাতির কাছে দেওয়া বড় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে তিনি মনে করেন।
খলিলুর রহমানের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক
সাবেক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়াকে অনৈতিক ও রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নাহিদ ইসলামও এই বিষয়ে সুর মিলিয়ে বলেন যে নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষতার স্বার্থে ছাত্র উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেছিলেন। অথচ এখন যদি সাবেক সেই উপদেষ্টারা নির্দিষ্ট একটি দলের সরকারের অংশ হন, তবে আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই এই ঘটনা প্রমাণ করে যে বিগত নির্বাচনে পর্দার আড়ালে বড় কোনো পরিকল্পনা কাজ করেছে।
নির্বাচনী কারচুপি ও সংস্কার বাধাগ্রস্ত করার শঙ্কা
বিরোধী দলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখলের একটি সুপরিকল্পিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর অংশ। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে অনেকগুলো আসনে তাদের সুকৌশলে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনের ফলাফল কারচুপি করা হয়েছে। তারা মনে করেন যে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই সরকারি দল এমন বিতর্কিত পথে হাঁটছে। কারণ খলিলুর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে এই পুরো নীল নকশা এখন জাতির সামনে উন্মোচন হয়ে পড়েছে। এই ব্রিফিংকালে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
