নির্বাচন কমিশন তিন প্রধান মহানগরীতে ভোটের আয়োজন শুরু করতে যাচ্ছে। কারণ জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোট করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতিমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে। তাই কমিশন এখন এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রাথমিক ধাপগুলো গুছিয়ে নিচ্ছে। কর্মকর্তারা ইসি সচিবালয়ে নথিপত্র প্রস্তুত করছেন যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও সময়সীমা
আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। যেহেতু প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ গণনা করা হয়, সেহেতু ঢাকার দুই সিটির মেয়াদ গত বছরই শেষ হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে চলেছে। ফলে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে দ্রুত ভোট করা এখন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব পৃথক চিঠিতে এই আইনি দিকগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়
পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ধারাবাহিকভাবে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন যে উৎসবের আমেজ কাটলেই মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। যদিও বর্তমানে অধিকাংশ সিটি করপোরেশন প্রশাসকের অধীনে চলছে, তবুও ভোটের মাধ্যমে নতুন প্রতিনিধি বেছে নেওয়া জরুরি। বরং নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটিতে বর্তমানে নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকারের কাঠামোতে বড় বদল এসেছে। প্রায় সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র এবং চেয়ারম্যানদের অপসারণ করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং এই নির্বাচনগুলো বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে। মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাদের নতুন স্থানীয় অভিভাবক নির্বাচন করার জন্য। তাই একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক ভোট উপহার দেওয়াই এখন কমিশনের প্রধান সার্থকতা।
