বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। কারণ সোমবার সলিসিটর মঞ্জুরুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করা অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। তাই ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে এখন এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। বেইজিং বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আমিনুল ইসলামের বর্ণাঢ্য আইনি ক্যারিয়ার
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম ইতিপূর্বে বিডিআর বিদ্রোহ মামলার অন্যতম আইনজীবী ছিলেন। কারণ তিনি বিস্ফোরক মামলায় আসামিদের খালাস ও জামিনের পক্ষে জোরালো আইনি যুক্তি উপস্থাপন করে পরিচিতি পেয়েছিলেন। হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকার এই কৃতি সন্তান এবং স্থানীয় নেত্রী সুফিয়া আক্তার হেলেনের স্বামী দীর্ঘকাল ধরে আইনি অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন। তাই তার হাত ধরে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম আরও শক্তিশালী হবে বলে সরকার আশা করছে। বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্কের মতোই বিচারিক ক্ষেত্রেও তিনি দৃঢ়তা দেখাবেন বলে অনেকে মনে করছেন।
তাজুল ইসলামের মেয়াদে অর্জিত সাফল্য
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের অধীনে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েছে। কারণ তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মামলার তদন্ত ও প্রসিকিউশনের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে যেখানে শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনকে দণ্ডিত করা হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার কাজ চলমান রয়েছে। তাই তার বিদায়কালেও তিনি একটি সুসংগঠিত বিচারিক কাঠামো রেখে গিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালে চলমান গুরুত্বপূর্ণ মামলাসমূহ
শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মামলার রায় এখন ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। কারণ আগামী ৪ মার্চ রামপুরার একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গুম ও নির্যাতনের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ হেভিওয়েট নেতারা বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। নতুন চিফ প্রসিকিউটরের সামনে এখন এই বিশাল বিচারিক কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেহেতু সাধারণ মানুষের নজর এখন ট্রাইব্যুনালের দিকে, তাই প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিতে হবে।
