ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে কারণ সাধারণ মানুষ একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশা করেছিল। দিনভর ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি এবং পরিবেশ মোটামুটি শান্ত থাকলেও ফলাফল ঘোষণার সময় দৃশ্যপট বদলে যায়। অনেকেই অভিযোগ করছেন যে, ভোটের মাঠ নিরপেক্ষ দেখানোর চেষ্টা ছিল একটি সুক্ষ্ম কৌশল মাত্র। বরং গণনার টেবিলে যা ঘটেছে, তাকে গণতন্ত্রের পরিহাস ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। তাই এই নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘বাজে’ বা বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভোট গ্রহণের স্বচ্ছতা ছিল কেবলই লোকদেখানো একটি নাটক।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছে কারণ তারা ভেবেছিল তাদের রায় কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোটদান প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা দেখা গেছে। কিন্তু সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই পাল্টে যেতে থাকে ভোটের প্রকৃত চিত্র। ডিজিটাল ফলাফল ব্যবস্থাপনার নামে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে কারণ অনেক আসনেই প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যার সাথে ঘোষিত ফলাফলের বিশাল ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। তাই ভোটারদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ পর্যন্ত একরাশ হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে।
গণনার টেবিলে পাতানো নির্বাচনের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী, ভোট গণনার সময় প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছিল কারণ তারা কারচুপির প্রতিবাদ করছিল। নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে এখন সাধারণ মানুষের মাঝে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ একটি রাজনৈতিক শক্তিকে বিজয়ী করতে ডঃ ইউনূসের প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকার পক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করছে, তবুও জনমনে থাকা সন্দেহ দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। বরং এই পাতানো নির্বাচনের ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
ডঃ ইউনূসের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের অধীনে এমন একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কেউ আশা করেনি কারণ তার কাছে জাতির প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। তিনি নিরপেক্ষ থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও গণনার সময় তার প্রশাসনের নীরবতা ছিল রহস্যজনক। অনেকেই মনে করছেন, পর্দার আড়াল থেকে কোনো বিশেষ মহলের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাই এই নির্বাচন কেবল একটি জয়-পরাজয়ের লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল একটি জাতির বিশ্বাসের অপমৃত্যু। মুদ্রার উল্টো পিঠে দেখা যাচ্ছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নামে ক্ষমতার এই রদবদল আসলে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করবে।
ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই নতুন কৌশল দেশকে আবারও চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে কারণ সংক্ষুব্ধ দলগুলো রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের দোহাই দিয়ে কারচুপির এই নজিরবিহীন ঘটনা বিশ্ব দরবারেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। সাধারণ মানুষ এখন মনে করছে, ভোট কেন্দ্রে যাওয়া কেবল সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই রাজনৈতিক সমঝোতা এবং একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব। সুতরাং, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন ইতিহাসের পাতায় একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হয়েই থাকবে।
