ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

নতুন সরকারের প্রথম রমজান: বাজারে আগুন, দিশাহারা মানুষ

রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন লেগেছে কারণ নতুন সরকারের প্রথম মাসেই দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের পণ্যের দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। যদিও পর্যাপ্ত আমদানি এবং মজুত রয়েছে বলে দাবি করছে সরকারি সংস্থাগুলো, তবুও সাধারণ ক্রেতারা এর সুফল পাচ্ছেন না। বরং সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অনেক পণ্যই এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

নতুন সরকারের প্রথম রমজান: বাজারে আগুন, দিশাহারা মানুষ

পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

​ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে কাঁচা মরিচ পর্যন্ত সবকিছুর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি এখন ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম অনেক জায়গায় ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা ছাড়িয়েছে। ইফতারির প্রধান অনুষঙ্গ লেবুর হালি এখন ১০০ টাকা কারণ সরবরাহ কম এবং চাহিদা আকাশচুম্বী। রমজানে অতি প্রয়োজনীয় ছোলার দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বেগুন ও শসার দামও গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

​টিসিবির ট্রাকের সামনে দীর্ঘ লাইন

​খোলা বাজারে দামের চাপ সইতে না পেরে সাধারণ মানুষ টিসিবির ট্রাকের দিকে ঝুঁকছে। কম দামে পণ্য কিনতে ভোররাত থেকে শত শত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে কারণ সেখানে ডাল, তেল এবং চিনি বাজারের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কিছু সুবিধা দেওয়া হলেও চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই নগণ্য। লাইনে দাঁড়ানো মানুষরা বলছেন, সরকার বদল হলেও বাজারের ভাগ্য বদলায়নি। তাই তাদের কষ্টের কোনো সীমা নেই।

​প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ

​বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এখন নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি অসাধু সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন কারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখাই এখন অগ্রাধিকার। তবে সরকারের এই নির্দেশনার প্রতিফলন বাজারে কবে দেখা যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় রয়েছে। কারণ সরবরাহ চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

​সমাধানের পথ

​বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, কেবল অভিযান চালিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। শিল্প ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাস এবং পরিবহনের চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি খুচরা ও পাইকারি বাজারের তদারকি বাড়াতে হবে কারণ অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য না কমলে সরকারের কোনো উদ্যোগই কাজে আসবে না। তাই সুশাসন ও তদারকিই এখন বাজার শান্ত করার একমাত্র পথ।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...