দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারকে অত্যন্ত সজাগ ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে জননিরাপত্তার বিষয়ে যে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে, তা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লিটজের সম্পাদক সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরীর দেওয়া সতর্কবার্তাটি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
![]() |
| ফাইল ফটো |
সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরী দায়িত্বের সঙ্গে দাবি করেছেন যে, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা হতে পারে, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ নিজেদের শক্তি ও অস্তিত্বের জানান দেওয়ার অপচেষ্টা করবে। এই ধরনের মন্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক।
জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলার বয়ান বা প্রোপাগান্ডা তৈরির পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। অভিযোগ উঠেছে যে, একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং পলাতক একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর যোগসাজশে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত করার জন্য এই ধরনের নীলনকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলতে এই ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এমতাবস্থায়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের প্রোপাগান্ডা বা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গঠিত স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গুজব ও উসকানিমূলক বয়ানে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
