ঢাকা: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিএনপির দূরত্বের গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
![]() |
| ফাইল ফটো |
একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী চেয়েছিল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেন অন্তত পাঁচ বছর মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়। কিন্তু বিএনপি ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য ইস্যুতে আগের সরকারের নীতি অনুসরণ করার প্রবণতা দেখা দেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে বিএনপির বর্তমান অবস্থান জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। যে প্রক্রিয়ায় ব্যাংকটি পরিচালনার পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা সাধারণ আমানতকারী ও ইসলামী অর্থনীতিতে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিযোগ রয়েছে যে, সরকার পরিবর্তনের পরেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের সরকারের মতোই হস্তক্ষেপমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী দেশে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করে আসছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতকে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ থেকে সরিয়ে যদি শত্রুভাবাপন্ন বিরোধী দলে রূপান্তরিত হতে বাধ্য করা হয়, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়ংকর ও অস্থিতিশীল হতে পারে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে সকল ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার পরিবেশ বজায় রাখা অপরিহার্য।
দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই যদি চরমপন্থী বা অবজ্ঞা প্রদর্শনের নীতি অনুসরণ করে, তবে তা শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের মূলে কুঠারাঘাত করবে। সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে ইসলামী মূল্যবোধ ও দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে সকল পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার মাশুল দিতে হতে পারে গোটা জাতিকে।
