ঢাকা: জাতীয় সংসদ ভবনে আজ সোমবার এক অভূতপূর্ব ও ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক সৌজন্যের দৃশ্য দেখা গেছে। কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক বা আইন পাসের ব্যস্ততার বাইরে গিয়ে, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের পাঠানো একটি বিশেষ ‘সারপ্রাইজ’ উপহার ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় গোটা সংসদ সচিবালয়ে। সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যবৃন্দ (এমপি) থেকে শুরু করে সংসদ সচিবালয়ের সকল শ্রেণির কর্মকর্তা এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে ১০ কেজি ওজনের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির মৌসুমি ফল আমের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।
![]() |
| বিরোধী দলের নেতার উপহার |
সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে এই সুদৃশ্য প্যাকেট নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সংসদের প্রতিটি দফতরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন। এই উদ্যোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর সমবণ্টন নীতি। সাধারণত উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাই এ ধরনের উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
উপহার পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন অফিস সহায়ক বলেন, "আমরা ছোট চাকরি করি, বড় বড় নেতাদের উপহার শুধু দূর থেকেই দেখি। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে আমাদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্মানের।"
বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে ড. শফিকুর রহমানের এই অনন্য উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্য জানান, রাজনীতি মাঠে থাকবে, কিন্তু সংসদের ভেতরে এই ধরনের সৌজন্যতাবোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। ড. শফিকুর রহমান সব স্তরের কর্মচারীদের যেভাবে মূল্যায়ন করলেন, তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, ড. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও মানবিক নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। আজকের এই উপহার বিতরণ কেবল কোনো বস্তুগত লেনদেন নয়, বরং এর মাধ্যমে তিনি সমাজের সব পক্ষকে সাথে নিয়ে চলার এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে মূল্যায়নের একটি স্পষ্ট এবং ইতিবাচক বার্তা দিলেন।
