ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) অকার্যকর ও ব্যর্থ প্রমাণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিবর্গের বিমাতাসুলভ আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রাখা এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অপেশাদার আচরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
ঘটনার সূত্রপাত সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি—শনিবারের বাস সার্ভিস চালু করাকে কেন্দ্র করে। ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে এই প্রকল্পের জন্য একটি বিশেষ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করেন। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, ফাইলটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের দপ্তরে চূড়ান্ত স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষরের পরই এটি উপাচার্যের টেবিলে যাওয়ার কথা।
তবে অভিযোগ উঠেছে, কোষাধ্যক্ষ মহোদয় এই জনগুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার যুক্তি হচ্ছে, দুই বছর পর এই প্রকল্পের অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি এতে সই করবেন না। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে ডাকসু প্রতিনিধিকে অপমানিত হতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তর্ক ও অশোভন আচরণ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী ছাত্র প্রতিনিধির ভাষ্যমতে, কোষাধ্যক্ষ কেবল ফাইলে সই করতেই অনীহা প্রকাশ করেননি, বরং নেতিবাচক ফিডব্যাক দিয়ে প্রকল্পটি শুরুতেই বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর সময়সীমা জানতে চাইলে তিনি অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় উত্তর দেন এবং ছাত্র প্রতিনিধির সাথে বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। একজন উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের "পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া" করার মতো আচরণকে চরম ইম্যাচুরিটি বা অপরিণত মানসিকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়:
বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে মানুষ গড়ার কারিগর তৈরির জায়গা। এখানে শিক্ষক এবং প্রশাসনের ব্যক্তিদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা ধৈর্য, সহমর্মিতা এবং অভিভাবকসুলভ আচরণ প্রত্যাশা করে। আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুযায়ী, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং দায়িত্বশীলদের আচরণ হবে নমনীয় ও সহযোগিতামূলক। কিন্তু প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে ছাত্র প্রতিনিধিদের তুচ্ছজ্ঞান করা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
শনিবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেমিনার ও একাডেমিক কার্যক্রম সচল থাকে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এই বাস সার্ভিস অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের এই পথে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু প্রশাসনিক অসহযোগিতা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ সুস্থ শিক্ষা পরিবেশের পরিপন্থী।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোষাধ্যক্ষ যেন তার পদের মর্যাদা রক্ষা করে ব্যক্তিগত ইগো পরিহার করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে প্রশাসনের এই ধরণের বাধা প্রদান ডাকসুকে বিতর্কিত করার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা কি না, তা নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
