ঢাকা: রাজধানী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই উত্তরা, মিরপুর, কাফরুল, ভাটারা ও বাড্ডাসহ বিস্তৃত এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে। নাগরিক জীবনে নেমে আসা এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ঢাকা মহানগরী উত্তর।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তাঘাট খাল-বিলে পরিণত হওয়ার প্রেক্ষাপটে রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নগর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই নগরবাসী বছরের পর বছর ধরে এই স্থবিরতার শিকার হচ্ছেন।
বিবৃতিতে উঠে আসে যে, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই দৃশ্যপটের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ হলেও ড্রেনের তলানিতে জমে থাকা কাদা ও বর্জ্য অপসারণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ডিএনসিসির ড্রেনেজ লাইনগুলো সংকীর্ণ এবং জীর্ণ হওয়ার ফলে বর্ষার ন্যূনতম চাপ সহ্য করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণেই নাগরিকদের এই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে মনে করেন নগর নেতারা।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “জনদুর্ভোগকে মৌসুমি বিষয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ সংস্কার ও মহানগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় যে চরম ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সরকারকে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:
প্রথমত, ডিএনসিসি এলাকার বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার জরুরি ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয়ত, একটি আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি মহানগর পানি নিষ্কাশন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা।
তৃতীয়ত, ড্রেনেজ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর জবাবদিহিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে জামায়াতে ইসলামী। সামাজিক মূল্যবোধ ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন নগরবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।
