ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকার ঘোষণা চীনের: 'জঙ্গলের আইন' বন্ধের আহ্বান

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন। কারণ বেইজিং মনে করে, এই ধরনের একতরফা হামলা আন্তর্জাতিক রীতির পরিপন্থী এবং অনেকটা 'জঙ্গলের আইন'-এর মতো।

ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকার ঘোষণা চীনের: 'জঙ্গলের আইন' বন্ধের আহ্বান

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি ও সিনহুয়া জানিয়েছে যে, দূরপ্রাচ্যের এই দেশটি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম উত্তেজনার মুহূর্তে বেইজিংয়ের এই অবস্থান ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ওপর বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। এখন সারা বিশ্বের নজর চীনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

ওয়াং ই ও আব্বাস আরাগচির টেলিফোন আলাপ

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সরাসরি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ফোন করে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। কারণ চীন ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে বেইজিং এই সংকটের সময়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। ওয়াং ই বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় চীন সবসময় পূর্ণ সমর্থন জানাবে। পাশাপাশি ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং যেকোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে সোচ্চার থাকবে। তাই এই ফোনালাপ তেহরানের জন্য একটি বড় নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামরিক অভিযান বন্ধের কড়া হুঁশিয়ারি

অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের আক্রমণাত্মক সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে চীন। কারণ উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে বেইজিং সতর্ক করেছে। ওয়াং ই স্পষ্ট করে বলেছেন যে, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত হস্তক্ষেপ শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়। তাই তিনি সব পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং যুদ্ধের পথ পরিহার করে আলোচনার টেবিলে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। যেহেতু চীন এই অঞ্চলের একটি প্রধান অংশীদার, তাই তাদের এই সতর্কতা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বেইজিংয়ের ভবিষ্যৎ ভূমিকা

পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চীন এখন সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। কারণ এই অঞ্চলের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি। বেইজিং বিশ্বাস করে যে, শক্তির দাপট দেখিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং আন্তর্জাতিক আইন মেনে সব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই এখন বিশ্বনেতাদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তাই আগামীর দিনগুলোতে চীন এই সংকট নিরসনে আরও বড় কোনো বৈশ্বিক উদ্যোগ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...